× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাংবাদিক বুলুর মৃত্যু

নৌপুলিশ বলছে আত্মহত্যা, সঠিক তদন্ত দাবি সহকর্মীদের

খুলনা অফিস

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২২:১৬ পিএম

নৌপুলিশ বলছে আত্মহত্যা, সঠিক তদন্ত দাবি সহকর্মীদের

খুলনার পরিচিত মুখ সাংবাদিক ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নৌপুলিশের ভাষ্য, তিনি নিজেই খানজাহান আলী সেতু থেকে রূপসা নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে স্বজনেরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। তদন্তে বেরিয়ে আসা উচিত প্রকৃত সত্য। 

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রেস ক্লাবের সদস্য ওয়াহেদ উজ জামান বুলুর মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন, সঠিক তদন্ত ও নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন মানববন্ধন করেছে। এ সময় বক্তারা অধিকতর তদন্ত করে মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি জানান। 

নৌপুলিশের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেতুর দুটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বুলু গত রবিবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নিজেই সেতু থেকে ঝাঁপ দেন। পরে সন্ধ্যায় তার লাশ সেতুর পিলারের বেজমেন্ট থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন, যা রূপসা নৌপুলিশ তদন্ত করছে।

তবে লাশ উদ্ধারের পর পুলিশের প্রাথমিক সুরতহালে দেখা যায়, তার মুখ থেঁতলানো, হাত ভাঙা এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শুধু আত্মহত্যা বলেই কি ঘটনাটি থামিয়ে দেওয়া যায়?- এ প্রশ্ন তুলছেন স্বজনেরা।

৬০ বছর বয়সী বুলু দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে চ্যানেল ওয়ান, ইউএনবি, আজকের কাগজ, বঙ্গবাণী, দৈনিক প্রবাহসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি ‘দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। খুলনা প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি।

পারিবারিক জীবনে তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। চার মাস আগে তার স্ত্রী নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টও দিয়েছিলেন। তার শ্যালকের স্ত্রী নুরুন্নাহার পারভীন জানিয়েছিলেন, রবিবার সকালে তার বাসা থেকে বের হন বুলু। দুপুর থেকে তার মোবাইল বন্ধ ছিল। রাতে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে গিয়ে শনাক্ত করেন।

ছোট ভাই আনিসুজ্জামান দুলু বলছেন, বুলু ভাই নানা চাপের মধ্যে ছিলেন। স্ত্রী নিখোঁজ, পারিবারিক টানাপোড়েন, ব্যক্তিগত সংকটÑ সব মিলিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবুও তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়।

স্থানীয়দের কাছে ‘শিববাড়ি মোড়ের বুলু ভাই’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন তিনি। মোড়ের কাছেই ছিল তার পুরোনো বাড়ি। পরে বাড়ি বিক্রি হওয়ায় আত্মীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। স্থানীয়রা বলছেন, শান্ত স্বভাবের হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি একাকিত্বে ভুগছিলেন।

নৌপুলিশের ব্যাখ্যা স্পষ্ট- তিনি আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু স্বজনদের প্রশ্ন, আঘাতের চিহ্নগুলো কি শুধুই পড়ে যাওয়ার ফল? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো কারণ?

সাংবাদিক সমাজের দাবি, বুলুর মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া সংশয় দূর করতে নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা