বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২২:০১ পিএম
রাজশাহীর বাগমারায় সরকারি খাদ্যগুদাম ভর্তি রয়েছে পচা চালে। গুদামের চালের ৭০-৮০ ভাগ চালই পঁচা, নষ্ট এবং খাওয়ার অনুপযোগী। চারটি খাদ্যগুদামে গিয়ে চালের বস্তা দেখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল ইসলাম এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান। গুদামে গিয়ে চালের এমন অবস্থা দেখতে পান ওই দুই কর্মকর্তা।
পঁচা চাল সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুফল ভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়ে থাকে। ওই সকল চাল সুফল ভোগীরা খেতে না পারায় প্রশাসনের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) খাদ্যগুদাম পরিদর্শনে যান উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
চারটি খাদ্যগুদামে গিয়ে চালের বস্তা দেখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল ইসলাম এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান। তারা ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সত্যতা পান। গুদামে থাকা চাল পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। চালের গুণগত মান ঠিক আছে কিনা সেটি পরীক্ষা করার জন্য কিছু স্যাম্পলও সংগ্রহ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার সরকারি সুফলভোগীদের মাঝে এই চালগুলো বিক্রি করা হয়ে থাকে। এই চালের মান এতটাই খারাপ, যা খাওয়ার সম্পুর্ণ অনুপযোগী।
এ বিষয়ে ওসি এলএসডি বাচ্চু মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দাবি করেন, এত চাল চেক করে নেওয়া সম্ভব হয় না। পাশাপাশি চালগুলো বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। ট্রাকভর্তি করে চালের বস্তা আনা হয় খাদ্যগুদামে। যার কারণে সকল বস্তা যাচাই করে নেওয়া সম্ভব হয় না।
এদিকে খাদ্যগুদামে এই অনিয়মের ঘটনায় চারটি গুদাম সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন। খাদ্য গুদামে অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নবী নওয়াজেশ আমিনসহ ওসি এলএসডি বাচ্চু মিয়া।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নবী নওয়াজেশ আমিন বলেন, উপজেলা খাদ্য গুদামে কখন কী পরিমাণ চাল বা ধান গুদামজাত করা হচ্ছে সেটি গুদাম কর্মকর্তা দেখে বুঝে নেন। কী পরিমাণ চাল নষ্ট হল এটি আসলে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, এটি আসলে গুদাম কর্মকর্তার অবহেলা। তিনি যে পদের দায়িত্ব পালন করবেন, সেটি খেয়াল রাখবেন না সেটা তো মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের কোটি কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হচ্ছে, অথচ তিনি জানেন নাÑ এটা হতে পারে না। এই চাল খাওয়ার অনুপযোগী আমি নিজেও জানতাম না। সুফলভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই গুদামে অভিযান পরিচালনা করি। অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় বর্তমানে চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।