× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ছেলেকে বাঁচাতে কিডনি দেবেন মা, অর্থাভাবে থমকে আছে অস্ত্রোপচার

শেরপুর প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:৪৯ পিএম

ছেলেকে বাঁচাতে কিডনি দেবেন মা, অর্থাভাবে থমকে আছে অস্ত্রোপচার

শেরপুর জেলা শহরের চকপাঠক মহল্লার দিনমজুর আশরাফ আলী ও মনোয়ারা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে কনি মিয়া। দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে মাত্র ২২ বছরের তরুণ কনি মিয়ার। গর্ভধারিণী মা নিজের একটি কিডনি দিয়ে বাঁচাতে চান আদরের ছেলেকে। কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপনের খরচ জোগাড় করতে না পারায় অস্ত্রোপচার হচ্ছে না কনির।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত শরীরে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে না পারলে, কনি মিয়াকে বাঁচানো যাবে না। বর্তমানে রাজধানীর সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের চিকিৎসকদের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন কনি মিয়া।

স্থানীয়রা জানান, ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’Ñএমন সংসারে মামার বাড়িতে চার ভাই আর মা বাবা নিয়ে বাস করছে কনি মিয়ার পরিবার। কনির দিনমজুর বাবাও হার্টের রোগী। আর কনির কিডনির চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

কনির মামা অটোরিকশা চালক মানিক মিয়া জানান, আশরাফ আলীদের জায়গা জমি নেই। তাই আমাদের এখানে ছোট্ট একটি ঘর উঠিয়ে দিন কাটাচ্ছে তারা। কনি মিয়াসহ তারা চার ভাই। সবাই দিনমজুরি কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ বছর দুয়েক আগে কনির চোখে সমস্যা দেখা দেয়। পরে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে বিভিন্ন পরীক্ষার পর কিডনিতে সমস্যা ধরা পড়ে। তারপর থেকে কিডনির চিকিৎসা চলে। কনি মিয়ার দুটি কিডনিই প্রায় বিকল হয়ে গেছে। এখন কিডনির মাত্রা ১৬ পয়েন্টের ওপরে। প্রতি সপ্তাহে ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে, এতে ১০ হাজার টাকার উপরে খরচ হয়। স্থানীয়রা ডায়ালাইসিস করাতে সহযোগিতা করছেন, কিন্তু দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন না করতে পারলে কনিকে বাঁচানো যাবে না।

তিনি আরও বলেন, ল্যাবএইড, ইবনে সিনা, পপুলার, কিডনি হাসপাতালসহ রাজধানী ঢাকার বড় বড় হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারের টাকা শেষ হয়ে গেছে। আত্মীয়স্বজন, কনির বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীরা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু এই টাকা তার চিকিৎসার জন্য খুবই নগণ্য। কনির বাবার ভিটেও নেই, যে বিক্রি করে প্রতিস্থাপনের ১০ লাখ টাকা জোগাড় করবে। সবার সহযোগিতা পেলে হয়তো কনি আবার সুস্থ হয়ে উঠবে।

কনির মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার সোনার টুকরো ছেলে দিন দিন কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে ছেলের এ অবস্থা দেখে সহ্য করা যায় না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কনির কিডনি প্রতিস্থাপন করতে অপারেশন ও বিভিন্ন ফি বাবদ প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হবে। আমাদের বিক্রির মতো আর কোনো কিছু অবশিষ্ট নেই। এমন পরিস্থিতিতে ছেলেকে বাঁচাতে সবার কাছ থেকে সহযোগিতা আশা করছেন মা মনোয়ারা। 

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আজকের তারুণ্য’র সভাপতি রবিউল ইসলাম রতন বলেন, চিকিৎসকরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। এ অবস্থায় ছেলের জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতেও প্রস্তুত মা মনোয়ারা বেগম। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে প্রতিস্থাপনের খরচ। বিত্তবানদের কাছে আকুতি, কনি মিয়াকে বাঁচাতে কিডনি প্রতিস্থাপনে সহযোগিতা করুন।

শেরপুর গ্রাজুয়েট ক্লাবের সভাপতি আল আমিন রাজু বলেন, ছেলেটি খুব অসুস্থ। তার বেঁচে থাকার জন্য কিডনি প্রতিস্থাপন জরুরি। কিডনি প্রতিস্থাপনে ১০ লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়। যেহেতু তার পরিবারের এই ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। আমি বিত্তশালীদের অনুরোধ করব, কনি মিয়ার চিকিৎসা খরচে সহায়তার জন্য।

শেরপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কিডনি-ক্যান্সারসহ ছয়টি রোগের ওপরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য অনুদান দিতে পারি। তারা আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা