ওবাইদুল আকবর রুবেল, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৩৯ পিএম
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৪৪ পিএম
পাঁচ দিন পরও কথা বলতে পারছে না চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ‘চোর সন্দেহে’ মব সৃষ্টি করে মারধরের শিকার আহত দুই কিশোর মানিক ও রাহাত। এরই মধ্যে মানিককে দিতে হয়েছে অক্সিজেন সাপোর্ট। রাহাতের শরীরে দেখা দিয়েছে জ্বর, ফুলে গেছে পা। ভেঙে যাওয়া হাতে-পায়ে ব্যান্ডেজ। সারা শরীরে ক্ষতের চিহ্ন। এ নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেডে ব্যথায় কাতরাচ্ছে কিশোর রাহাত।
পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন মা রোজি আক্তার। তার চোখে-মুখে রাজ্যের অনিশ্চয়তা। সন্তানের দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনিও। একই হাসপাতালের নিচতলার ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের ১১ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন রাহাতের বন্ধু ইসমাইল হোসেন মানিক। তার শরীরেও অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। তার এক হাত ভেঙে ফেলা হয়েছে। এখনও আতঙ্কে তার ঘুম ভাঙে। গত মঙ্গলবার চমেক হাসপাতালে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়।
আহত মানিকের মা রোজিনা আক্তার বলেন, ‘ছেলের মুখে সর্বশেষ গত শনিবার মা ডাক শুনেছি। এর পর মুখ দিয়ে আর কোনো কথা বলেনি সে। এখনও পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি।’ নিশ্চুপ হয়ে শয্যায় শুয়ে থাকা ছেলেকে দেখিয়ে মায়ের প্রশ্নÑ ‘আচ্ছা আমার মানিক আবারও কথা বলবে তো।’ তার পাশে পায়চারি করছেন বোন আঁখি। তিনি বলেন, হৃৎস্পন্দন নিতে সমস্যা হচ্ছে। দিতে হয়েছে অক্সিজেন সাপোর্ট। আরেক আহত রাহাত সেও কথা বলতে পারছে না। তারও পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি। ভেঙেছে তার এক হাত ও এক পা। করা হয়েছে প্লাস্টার। পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তজমাট। এ অবস্থায় সোমবার সকালে তার শরীরে জ্বর দেখা দেয়। ফুলে যায় পা। পায়ের কয়েকটি অংশে পড়েছে সেলাই। সোমবার আহত দুজনকেই বেশ কিছু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন।
গত ২২ আগস্ট ভোরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার চেইঙ্গার সেতুর ওপর বেঁধে গণপিটুনি দেওয়া হয় তিন কিশোরকে। ঘটনাস্থলেই মারা যায় রিহান উদ্দিন মাহিন (১৫)। মানিক ও রাহাতকে মুমূর্ষু অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পাঁচ দিন পরও তাদের শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, আহতদের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। তবে তাদের মধ্যে ট্রমা কাজ করছে। এটি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।
রাহাতের মামা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘটনার এত দিন পরও মামলার আসামি নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। টাকা দিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করা হচ্ছে বলে আমাদের ধারণা।
মাহিন হত্যায় গ্রেপ্তার দুই আসামি পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ নোমান ও গাড়িচালক আজাদ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে ফারাজ উদ্দিনের নাম উঠে আসে। গত রবিবার বিকালে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের বেড়াজালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফারাজ উদ্দিন কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কাঞ্চননগরের ফিরোজ মিয়ার ছেলে। এ নিয়ে মাহিন হত্যা মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার হলো। যদিও মব সন্ত্রাসে অন্তত ৪০ জন অংশ নিয়েছিল।
এদিকে ঘটনার পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও এখনও আটক হয়নি মূল হোতা নাজিম উদ্দিনসহ বাকি আসামি। ফটিকছড়ি থানার ওসি নুর আহমদ বলেন, ‘আসামিরা বাঁচার জন্য চুরির নাটক সাজাচ্ছে। এর মধ্যে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’