এহসান রিয়াজ, রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৩৩ এএম
সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে কমলনগরের চরফলকন ইউনিয়নের নাজির সড়কটি। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরফলকন ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নাজির সড়কটি বেহাল। সংস্কার না হওয়ায় এটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন আগে সলিং করা এই সড়কটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মেঘনার জোয়ারের পানির চাপে নানা জায়গায় ভেঙে গেছে। জোয়ারে ইটের সলিং নষ্ট হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দের।
এতে কয়েক হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের কাছে অনেক ধরনা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। অবিলম্বে সড়কটি পুনর্নির্মাণ ও সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নাজির সড়কটি দিয়ে মাওলানা পাড়া, পলোয়ান পাড়া, হাজি ইসমাইল পাড়াসহ আশপাশের অনেক সমাজের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন।
বিশেষ করে এই সড়কে তাবলিগ জামাতের মারকাজ মসজিদে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মুসল্লি আসা-যাওয়া করেন। তবে সড়কটির বেহাল দশায় যানবাহনসহ মানুষের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরফলকন মারকাজ মসজিদ সংলগ্ন হাজিরহাট থেকে মাতাব্বর হাট পাকা রাস্তার মাথা হয়ে দক্ষিণ দিকে লুধুয়া রাস্তার মাথা পর্যন্ত নাজির সড়ক। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রায় ১০০০ মিটারের এ সড়কটিতে সলিংয়ের কাজ শেষ করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে কিছুদিন না যেতেই মেঘনার প্রবল জোয়ারে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রায় ১০-১২টি স্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়কটি। হাজার হাজার মানুষ সড়কটিতে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজনে গাড়ি, অসুস্থ রোগীর জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসও সচল রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি রিকশাও চলতে চায় না সড়কে।
সড়কটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মতিন বলেন, এটা আমাদের এলাকার একমাত্র চলাচলের রাস্তা। স্কুল, কলেজ, বাজার, হাসপাতাল সব জায়গায় যাওয়া-আসা এই সড়কের ওপরে নির্ভর। কিন্তু এখন চলাফেরা করাটা খুব কষ্টকর।
শিক্ষার্থী রাবেয়া সুলতানা বলেন, প্রতিদিন স্কুলে যেতে ভীষণ কষ্ট হয়। কাদা ও ভাঙাচোরা সড়কে হেঁটে স্কুলে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে।
স্থানীয় প্রবীণ আবুল খায়ের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৯ সালে সড়ক সলিং করার পর আমরা ভেবেছিলাম দুর্ভোগ শেষ। এখন আগের চেয়েও খারাপ অবস্থা। জনপ্রতিনিধিদের বারবার বলেও কোনো লাভ হয়নি।
চিকিৎসা নিতে যাওয়া ফারুক হোসেন বলেন, জরুরি অবস্থায় রিকশাও আসে না। হেঁটে কাদা ও পানি মাড়িয়ে যেতে হয় হাসপাতালে।
৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মিজানুর রহমান মান্না জনদুর্ভোগের বিষয়ে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহেলা ও উদাসীনতায় সড়কের এই বেহাল দশা।
এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক বছরের পর বছর ধরে অবহেলিত থাকবে, এটা খুবই দুঃখজনক। এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে, বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
এ বিষয়ে চর ফলকন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বাগা বলেন, আমি এই সড়কের দুর্ভোগের বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। সামনের প্রকল্পে তিনি চেষ্টা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা ইউএনও রাহাত উজ জামান বলেন, নাজির সড়কের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। সড়কটি গ্রামীণ সড়কের আওতাভুক্ত হলে এই অর্থবছরে সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে। আর যদি এলজিইডির আইডিভুক্ত হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হবে।