রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:৫১ পিএম
সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পাহাড় থেকে লোকালয়ে চলে আসা বন্যহাতির উপদ্রব বেড়েছে। হাতির তান্ডবে নষ্ট হয়েছে শত শত হেক্টর ধান, মারা গেছে একাধিক গরু। প্রতিবছর এই তান্ডব চলে আসলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় হাতির উৎপাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসন ও বনবিভাগের হস্তক্ষেপ কামনায় মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া ইউনিয়নের নারিশ্চা বটতল এলাকায় নারিশ্চা, হরিহর, রাজাপাড়া গ্রামের কয়েক শতাধিক কৃষক এই কর্মসূচি করেন।
কালিন্দিরানী সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কৃষক সৈয়দ মোহাম্মদ লোকমান হাকিম। বক্তৃতা করেন কৃষক খোরশেদ আলম, আবদুল মান্নান, খাইজ আহমদ, নুরুল আবছার, শাহজাহান সিকদার, রুবেল, ফরিদ, আলম, রিজিয়া আক্তার, ঝিনু আক্তার, বাচা মিয়া প্রমুখ।
তারা জানান, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা, শিলক, কোদালা ও পদুয়া ইউনিয়নে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নিয়মিত তান্ডব চালাচ্ছে বন্য হাতির পাল। বিশেষ করে পদুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্পটে এবার কষ্টের ধান লাগানো থেকে পাকা হওয়া পর্যন্ত ৪-৫ বার হাতির পাল হানা দিয়েছে। এছাড়া স্থানীয় মানুষের বাড়িঘরেও তান্ডব চালিয়ে মানুষের গরু-ছাগল মেরে ফেলছে। প্রতিবছর হাতির আক্রমণে মারা গেছে অনেকে। বর্তমানে চলমান আমন মৌসুমে ধান পাহারা দিতে গিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার চার ইউনিয়নের হাজার হাজার কৃষক। হাতির তান্ডব থেকে বাঁচতে বনবিভাগের দায়িত্বশীলদের জানালেও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। এমনকি হাতির তান্ডব থেকে কৃষকের কষ্টের ফসল ও লোকালয়ের বাসিন্দাদের রক্ষায় বনবিভাগের নিয়োগকৃত দলও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেন না বলে জানান তারা। এতে ইতিমধ্যেই চলতি মৌসুমে শত শত হেক্টর ধান হাতির তান্ডবে নষ্ট হয়েছে এবং স্থানীয়দের বেশকিছু গৃহপালিত গরু-ছাগল মেরে ফেলেছে। ক্ষতিপূরণ পেতে জঠিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হওয়ায় খেটে খাওয়া কৃষক তাও করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধন শেষে স্থানীয় নারিশ্চা বিট অফিসে মিছিল নিয়ে গেলে বিট কর্মকর্তা অসুস্থ বলে জানান এক ফরেস্টগার্ড। এ সময় ক্ষুব্দ জনসাধারণ তারা হাতির তান্ডব থেকে রক্ষায় কোনো দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ করেন এবং সড়কে অবৈধ বাঁশ-কাঠের গাড়ি থেকে মাসোহারা আদায়েই বেশি সময় ব্যয় করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
জানতে চাইলে মানিক নামের নারিশ্চা বিটের ওই ফরেস্ট গার্ড জানান, হাতির তান্ডব থেকে রক্ষায় খবর পেলেই তারা দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করলে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করছেন বলে জানান তিনি।
বন বিভাগ সংশ্লিষ্ট জানান, পটিয়া হয়ে বোয়ালখালী, সরফভাটা, শিলক, পদুয়া, রাইখালী কাপ্তাই হয়ে শিলছড়ি পর্যন্ত হাতির একটা করিডোর আছে। এই পথে হাতি আদিকাল থেকেই চলে আসছে। তবে আগের তুলনায় হাতির সংখ্যাও এখন বেড়েছে। অন্তত ৪০টি হাতি এখন এই পথে চলাচল করে।
এই ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজুর রহমান বলেন, হাতি মানুষের দ্বন্দ্ব কমাতে বিভিন্ন সভা–সেমিনার, মাইকিংসহ নানা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে হাতির আক্রমণে ফসলের ক্ষতিপূরণ বাবদ এবং মারা যাওয়া পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ম অনুসারে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।