নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:৪২ পিএম
স্কুলছাত্রীর রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া নাম ও বয়স পরিবর্তন করে জন্ম সনদ এনে বাল্যবিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরযাত্রীরা কনের বাড়িতে এলে তাদের আপ্যায়ন শেষ করা হয়। ঠিক সে সময় এলাকাবাসীর কাছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান।
একইসঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বর ও কনের বাবাকে ২৫ হাজার টাকা করে ৫০ হাজার জরিমানা করা হয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের বড় দুলালী গ্রামের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাজেদ আলী খন্দকারের ছেলে মোস্তফা খন্দকারের ১৬ বছর বয়সের মেয়ে ও বাউরগাতি জুনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে সামাজিকভাবে নলচিড়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হারুন মৃধার ছেলে ঢাকায় একটি কোম্পানিতে কর্মরত অহেদ হোসেন মৃধার বিয়ে ঠিক হয়। পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী বুধবার দুপুরে বরপক্ষ বরযাত্রী নিয়ে দুপুরে কনের বাড়িতে আসে। এরপর তাদের আপ্যায়ন শেষ করা হয়।
গৌরনদী উপজেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরের সুপারভাইজার নারায়ণ চন্দ্র দে জানিয়েছেন, বাল্যবিয়ের বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে জানতে পেরে তাৎক্ষণিক উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান ঘটনাস্থলে ছুঁটে যান। এ সময় কনের বাবা তার মেয়ের একটি জন্ম সনদ দেখান। যেটি পাশের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গত ২৭ আগস্ট নেওয়া হয়েছে। ওই জন্ম সনদে তার মেয়ের স্কুলে দেওয়া নাম ও বয়স পরিবর্তন করে ১৯ বছর দেখানো হয়েছে। কিন্তু স্কুলের কাগজপত্র যাচাইকালে কনের বয়স ১৬ বছর প্রমাণিত হয়।
একপর্যায়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বাল্যবিয়ে আয়োজনের বিষয়টি কনের বাবা ও বর স্বীকার করায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদের দুইজনকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, একইসঙ্গে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবার আগে এ বিয়ে সম্পন্ন করা হবে না মর্মে উভয়ের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বরযাত্রীরা বাড়ি ফিরে যান।
পাশাপাশি বিষয়টি নজরদারির জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউপি সচিব ও গ্রামপুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযানে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, ভূয়া জন্ম নিবন্ধন করা ইউপি সচিব ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।