রায়হান হত্যা মামলা
সিলেট আফিস
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৩ পিএম
এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া।
সিলেটের আলোচিত রায়হান আহমদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি পুলিশের বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিচারাধীন এ মামলার ধার্য তারিখে তিনি আদালতে হাজির হননি।
এর আগে ১৪ আগস্ট হাইকোর্টের চেম্বার জজ আদালতে তার জামিন স্থগিত করে ১০ দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি হাজির হননি। গত ১০ আগস্ট উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরদিন ১১ আগস্ট সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পান আকবর।
সিলেট জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আশিক উদ্দিন জানান, গতকাল বুধবার সিলেট মহানগর জজ আদালতে বিচারাধীন থাকা এ মামলার ধার্য তারিখ ছিল। কিন্তু তিনি আদালতে হাজির হননি।
উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হওয়া আকবর হোসেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, ঘটনার পরপরই এই মামলার আসামি আবদুল্লাহ আল নোমান দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিছুদিন আগে আরেক আসামি এসআই মো. হাসান উদ্দিন জামিনে বেরিয়ে পালিয়ে গেছে। এবার প্রধান আসামি আকবর জামিনে ছাড়া পেল।
দু’দিন আগে সিলেটে ম্যাজিস্ট্রেট-পুলিশ কনফারেন্সেও বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। পলাতক আকবর হোসেনকে খুঁজে বের করে আইনের হাতে সোপর্দ করার তাগিদও দেয়া হয় ওই বৈঠকে।
২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হানকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। রায়হানের পরিবার অভিযোগ করে, পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে রায়হানের স্ত্রী মামলা করেন। তদন্তে মহানগর পুলিশের গঠিত কমিটি ফাঁড়িতে নির্যাতনের সত্যতা পায়। পরে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৫ মে পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন- সহকারী উপ-পরিদর্শক আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, সাময়িক বরখাস্ত এসআই হাসান উদ্দিন এবং সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান।