কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:৩৯ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:৪১ পিএম
কক্সবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্র বাঁকখালী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের তৃতীয় দিন জনতার প্রবল বাধার মুখে অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কস্তুরাঘাট সংলগ্ন পেশকারপাড়ায় উচ্ছেদ অভিযান শুরুর চেষ্টা করলেও স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। দিনভর উত্তেজনার পর বিকেল ৪টার দিকে বুলডোজারসহ অভিযানকারী দল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
অভিযান স্থগিতের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তৃতীয় দিনের অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শতশত মানুষের দাবি, তারা নদীর তীরের জমিতে বহু বছর ধরে বসবাস করছেন এবং তাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তারা ঘোষণা দেন, প্রাণ দিলেও উচ্ছেদ মেনে নেবেন না। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকলেও জনতাকে সরানো যায়নি।
এদিকে গত মঙ্গলবার উচ্ছেদ অভিযানের সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ইলিয়াস খান জানান, বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ সোমবার থেকে কস্তুরাঘাট সংলগ্ন বাঁকখালী নদীর তীরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। প্রথমদিনে বেশ কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও পরদিন মঙ্গলবার দ্বিতীয়দিনের উচ্ছেদ শুরুর পর সকাল ১১ টার দিকে অবৈধ দখলদারের লোকজন বাঁধা দেন। এসময় পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুলিশের এক সদস্য ইটের আঘাতে মাথা ফেটে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আহত পুলিশ কনস্টেবল করিম বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে উৎপন্ন ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁকখালী নদী রামু ও কক্সবাজার সদর হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। ২০১০ সালের সরকারী প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএকে নদীবন্দরের সংরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দিলেও আজও ৭২১ একর জমি বুঝিয়ে দেয়নি জেলা প্রশাসন। এতে দখল ও দূষণ বেড়েই চলেছে।
দখল দুষণরোধে গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানে দুই দিনে প্রায় ৭০ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে বসবাস ও ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। বিশেষ করে নুনিয়ারছড়া থেকে মাঝিরঘাট পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার এলাকায় দখলের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। গত এক দশকে এখানে এক হাজারেরও বেশি অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। বিআইডব্লিউটিএ এবং স্থানীয় ভূমি অফিসের যৌথ জরিপে ৩৫০ জন প্রভাবশালীর নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাঁকখালী নদী রক্ষায় হাইকোর্ট ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট এক আদেশে নির্দেশ দেয়, চার মাসের মধ্যে সকল অবৈধ দখলদারদের তালিকা করে উচ্ছেদ এবং নদী দূষণ রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার কক্সবাজারে এসে বিশেষ সমন্বয় সভায় অংশ নেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, দখলদারদের সমন্বিত তালিকা করে বাঁকখালী নদীকে দখলমুক্ত করা হবে।