মহসিন মোল্যা, শ্রীপুর (মাগুরা)
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:২৪ পিএম
ডাক্তার পঙ্কজ কান্তি মণ্ডল নিজ অর্থায়নে নানা উদ্যোগ নিয়ে পুরো গ্রামের চিত্রই পাল্টে দিয়েছেন। প্রবা ফটো
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কাদিরপাড়া ইউনিয়নের দোরাননগর গ্রাম একসময় ছিল অবহেলিত ও নদীভাঙনে বিপর্যস্ত। গড়াই নদীর তীরবর্তী হওয়ায় প্রতি বর্ষায় ভাঙনের কবলে পড়ত গ্রামটি। তবে গ্রামের সন্তান ও ঢাকা মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার পঙ্কজ কান্তি মণ্ডল নিজ অর্থায়নে নানা উদ্যোগ নিয়ে পুরো গ্রামের চিত্রই পাল্টে দিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাঙ্গলবাঁধ-ওয়াপদা সড়ক থেকে দোরাননগরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে নামফলক ও সারি সারি সোলার লাইট। রাতে এগুলোর আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে গ্রামটি, যার ফলে কমেছে চুরি-ডাকাতির উপদ্রব। সরকারি রাস্তার বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হলেও ডা. পঙ্কজ নিজ উদ্যোগে প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করে দিয়েছেন এবং পুরো রাস্তায় সোলার লাইট স্থাপন করেছেন।
নদীভাঙন ঠেকাতে তিনি গড়াই নদীর ভেতরে নির্মাণ করেছেন ৪৫টি বাঁধ, যার ফলে দোরাননগর, বিষ্ণুপুর ও গঙ্গারামখালীসহ আশপাশের এলাকা রক্ষা পেয়েছে। শিশুদের জন্য গড়ে তুলেছেন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মানুষের বিনোদনের জন্য নদীতীরে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘দেবাদাসী ড্রিম পার্ক’। প্রতিনিয়ত দূরদূরান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা এখানে আসছেন।
শুধু তাই নয়, তিনি নিয়মিত গ্রামের মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেন ও ওষুধ সরবরাহ করেন। তার এসব উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে গ্রামবাসী রাস্তাটির নামকরণ করেছে ‘পঙ্কজ কান্তি মণ্ডল সড়ক’। ২০২৪ সালে মাগুরার তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবু নাসের বেগ তাকে পুরস্কৃতও করেছেন।
তবে একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধাচরণ ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। এলাকাবাসী এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, গ্রামের উন্নয়নে আজীবন নিবেদিতপ্রাণ এই মানুষটির বিরোধিতা আসলে হীন মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
কাদিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন খান বলেন, ‘ডা. পঙ্কজের উদ্যোগে দোরাননগর গ্রাম আজ টিকে আছে। তিনি শুধু ভাঙন ঠেকাননি, চিকিৎসা ও বিনোদন সুবিধা দিয়ে গ্রামকে আলোকিত করেছেন। তাঁর নামে রাস্তাটির নামকরণ যথার্থ।’
নিজের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ডা. পঙ্কজ কান্তি মণ্ডল বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমি চিকিৎসক, আমি মানুষের সেবক। যতদিন বেঁচে থাকব, গ্রামের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।’