মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:৩৪ পিএম
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল অবৈধভাবে ক্রয় ও মজুতের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (০৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম বিষয়টি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় পিরিজপুর বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময়, ঘটনাস্থল থেকে ৩৩টি খালি বস্তা ও ১৭ বস্তা চাল জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেনÑ পিরিজপুর ইউনিয়নের জুয়ারিয়া গ্রামের মুসলিম মিয়ার ছেলে মো. বিল্লাল মিয়া (৩৮), পিরিজপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ জোয়ারিয়া গ্রামের মৃত জব্বার মিয়ার ছেলে মো. বাদল মিয়া (৪৮)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, এ ঘটনার মূল হোতা পিরিজপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার হাবিব মিয়া। তারা জানান, তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহমুদ আলম লিটনের সঙ্গে এই অনিয়মে জড়িত।
এ বিষয়ে পিরিজপুর ইউনিয়নের ডিলার হাবিবুর রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নে মোট ৫০২ বস্তা চাল কার্ডধারী হতদরিদ্রদের নামে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রয় করার জন্য বরাদ্দ দিয়েছে প্রশাসন। আমি আমার দোকান থেকে একটি বস্তা চালও কারও কাছে বিক্রি করিনি। আমি শতভাগ স্বচ্ছভাবে কাজ করছি কোনো অনিয়ম করিনি।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা তাহিদুল ইসলাম রিয়াদ জানান, চাল নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ডিলার হাবিবুর রহমান জড়িত কি না তা তদন্ত করে দেখা হবে।
বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাসিদ বিন এনাম বলেন, জনগণের প্রাপ্য সরকারি চাল নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খবর পাওয়ার পর কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের থানায় পাঠানো হয়েছে এবং জব্দকৃত চাল ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। যেসব কার্ডধারী তাদের প্রাপ্য চাল বিক্রি করেছেন, শনাক্ত হলে তাদের কার্ড বাতিল করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।