× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

১২০ বছরেও মিলেনি বয়স্ক ভাতা, খেয়ে না খেয়ে কাটছে মল্লিকা বানুর দিন

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:৫৮ পিএম

শতবর্ষী বৃদ্ধ মল্লিকা বানু। প্রবা ফটো

শতবর্ষী বৃদ্ধ মল্লিকা বানু। প্রবা ফটো

একে একে ১২ যুগেরও বেশি সময় পার করে আসা শতবর্ষী বৃদ্ধ মল্লিকা বানু খাবারের অভাবে ছটফট করছে। একবার খাবার খেলে বাকি দু’বেলা খাবার জুটবে কি না তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় কাটাতে হয় তাকে। বর্তমানে জীর্ণশীর্ণ হয়ে বেঁচে আছেন তিনি। এখনো মেলেনি বয়স্ক ভাতা ও সরকারি কোনো সহায়তা। ফলে, অন্তহীন কষ্টে দিনযাপন করতে হচ্ছে তাকে। বৃদ্ধ মল্লিকা বানুর প্রশ্ন, আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতা পাব?  

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সশ্রম-ধুলদিয়া ইউনিয়নের মধ্য পুরুরা গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মল্লিকা বানু। স্বামী মো. হাসু ৪৫ বছর আগে মারা যায়। তার তিন ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। হতদরিদ্র ছেলে কাদির মিয়ার ঘরে থাকেন তিনি। কিন্তু দরিদ্র ছেলে নিজের সংসার চালাতেই হিমশম খাচ্ছে, তার ওপর বয়স্ক মাকে দেখাশোনা করে যাচ্ছেন তিনি। একে বেলা খাবার জুটালে আরেক বেলা দিয়ে থাকেন দুশ্চিন্তা। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণশীর্ণ শরীর নিয়ে বসে আছেন চৌকিতে। খাবারের অভাবে বিলাপ করে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু হতদরিদ্র ছেলের সংসারে মা’র জন্য ইচ্ছে থাকলেও কিছুই করতে পারছে না। ঘরে গিয়েই দেখা যায় অভাবের স্পষ্ট ছাপ। 

পুত্রবধূ রিমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। মা’কে নিয়ে আমরা নিরুপায়। আমাদের অভাবের সংসার। স্বামী কাদির মিয়া মানুষের কাজ করে যা উপার্জন করেন তা দিয়ে পরিবারের তিন বেলা খাবার জোগাড় করাই বড় কষ্ট।’

ছেলে কাদির মিয়া বলেন, ‘আমার মায়ের বয়স ১২০ বছরের অধিক। ব্রিটিশ থেকে পাকিস্তান আমল সবকিছুই দেখে এসেছেন তিনি কিন্তু দেখেনি শুধু বয়স্ক ভাতার কার্ড। অভাবের কারণে আমরা খুব অসহায় দিন কাটাচ্ছি। মায়ের মুখে তিনবার খাবার দিতে পারছি না। সরকারি কোনোরকম সহায়তা কখনো পায়নি আমরা। বয়স্ক ভাতার কার্ড পাইনি আমার মা মল্লিকা বানু।’

এলাকাবাসী জানায়, এক সময় মল্লিকা বানু ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু বর্তমানে চলাফেরা করতে না পারার কারণে খুব কষ্টে কাটছে দিন। সরকারি সহায়তা ও দানশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে আসার দাবি তাদের। 

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’কে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। এমন বয়সি মানুষ ভাতা পাবে না এটা হতেই পারে না। আমি আপনার (প্রতিবেদন) থেকে শুনে সঙ্গে সমাজসেবা কর্মকতা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ তাত্ক্ষণিকভাবে বাড়িতে গিয়ে বৃদ্ধা মা’কে সকল সহায়তা ও খাবার দিয়ে এসেছি। পাশাপাশি বয়স্ক ভাতাসহ সামনে আরো যাবতীয় সহায়তা করার পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা