মণিরামপুর (যশোর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৫ ২০:০৪ পিএম
আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৫ ২০:২০ পিএম
যশোর-খুলনা এলাকার ভবদহে জলাবদ্ধতায় প্রায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। পরিস্থিতি উন্নতি হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর এবং খুলনার ডুমুরিয়ার মানুষের গলার কাঁটা ভবদহের জলাবদ্ধতা।
প্রায় দু মাস ধরে ২-৪ ফুট পানিতে তলিয়ে আছে গ্রামের পর গ্রাম। বাড়িঘরে পানি, স্কুল-কলেজের আঙ্গিনায় পানি। কোথাও আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস রুমের পানি জমে আছে।
শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্লাসে বেঞ্চের মাচা বানিয়ে, বাড়ি উঠানে তাবু টানিয়ে কিংবা আশেপাশের অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় অস্থায়ী সেড তৈরি করে ক্লাস চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তাতেও নানা সমস্যা। যাতায়াতের সমস্যা। তাছাড়া সাঁপসহ বিভিন্ন রকমের পোঁকামাকড়ের ভীতি রয়েছে। ফলে এগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
জলাবদ্ধতায় বিভিন্ন পযার্য়ের শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ পানিতে ডুবে আছে। এতে বেশির প্রতিষ্ঠান শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে অথবা বিকল্প পন্থায় পাঠদান চালিয়ে যেতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার (৩১ আগস্ট) সরজেমিন জলাবদ্ধ এলাকায় গেলে এইসব চিত্র দেখা যায়। শেফালী পাঁড়ে নামক এক শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীদের বাড়ি-ঘরে পানি উঠেছে। বিদ্যালয়েও পানি। ক্লাসে পানির কারণে বেঞ্চের মাঁচা বানিয়ে কোনো রকমে ক্লাস চালানো হলেও বর্তমানে পানি বাড়ায়, সেটাও বন্ধ করতে হয়েছে। তাছাড়া স্কুলের রাস্তায় পানি, স্কুলের মাঠে পানি। ঝুঁকি জেনেও বাচ্চারা স্কুলে আসছে। জলাবদ্ধ এলাকার একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলে যাওয়ার রাস্তায় কোথাও হাটু পানি, কোথাও কোমর পানি। স্কুলের মাঠে হাটু পানি, কোথাও আবার স্কুলের ক্লাসেও পানি। পানি ভেঙে বাড়ি থেকে স্কুলে যেতে হচ্ছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম জিল্লুর রশীদ বলেন, মণিরামপুরসহ কেশবপুর, অভয়নগর ও ডুমুরিয়ার কমপক্ষে শতাধিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। এ কারণে এসব এলাকার বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদান বন্ধ।