প্রবীর সুমন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১২:৫৬ পিএম
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী-ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের সংযোগ সড়কের সেতু নির্মাণ না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় পথচারীদের। প্রবা ফটো
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী ইউনিয়ন থেকে ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের সংযোগ সড়কে দুটি ব্রিজ আছে। এর একটি দুই বছর আগে পাহাড়ি ঢলে ধসে যাওয়ায় ব্যবহার অনুপোযোগী। অন্যটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর পাটাতনের ওপর দিয়ে মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। এ অবস্থায় এলাকার কয়েক হাজার মানুষ রয়েছেন চরম দুর্ভোগে। জানা যায়, সংযোগ সড়কটি ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ।
তার মধ্যে ৫ কিলোমিটার কার্পেটিং বাকিটা ইট সলিং যা কার্পেটিংয়ের জন্য অপেক্ষমাণ। সড়কটি দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে এলজিইডি। সড়কটি ইট সলিং হলেও ব্রিজ না থাকায় ছড়া দিয়ে চলাচল করতে হয় এলাকাবাসীর।
এলজিইডির তথ্য মতে, ২১-২২ অর্থবছরে এই রাস্তার দীঘিনালা থেকে খাগড়াছড়ি সদরের ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়কের ইট সলিংয়ের কাজে সঙ্গে এই দুটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ব্রিজের কাজ শুরু করার পর অজ্ঞাত কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার অজুহাতে কাজ করেনি। ফলে নির্মাণকাজের বাজেট মন্ত্রণালয়ে ফেরত চলে যায়।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বোয়ালখালী ও মেরুং ইউনিয়নের সবচেয়ে দুর্গম বিষ্ণু কার্বারী পাড়া, হাজা পাড়াসহ কয়েকটি পাড়ার মানুষের একমাত্র চলাচলের সড়কে ব্রিজ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছড়া দিয়ে পারাপার হচ্ছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ছেন তারা।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার বোয়ালখালী ও মেরুং ইউনিয়নের সবচেয়ে দুর্গম বিষ্ণু কার্বারী পাড়া, হাজা পাড়াসহ ৫-৬টি গ্রামের প্রায় শতভাগ মানুষ জুম চাষ ও পাহাড়ি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। যাতায়াতের একমাত্র সড়কের ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য মাথায় করে বহন করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় খোলা নেই। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষ করে বর্ষায় ছড়ার পানি বেড়ে গেলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য, গাছ, বাঁশ পরিবহনের খরচ পড়ে দ্বিগুণ এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
তা ছাড়া বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী মা এবং স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছড়া পার হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষাকালে ভোগান্তি চরমে ওঠে।
এ সময় বিষ্ণু কার্বারী পাড়া বাসিন্দা অনিল ত্রিপুরা বলেন, সড়কে ব্রিজ না থাকায় উপজেলার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অসুস্থ রোগী, ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যাপীঠে যাতায়াতে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। অসুবিধার কথা চিন্তা করে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।
বিষ্ণু কার্বারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় ত্রিপুরা বলেন, ব্রিজ না থাকায় নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াতে সমস্যা হয়। পায়ে হেঁটে যেতে হয়। তা ছাড়া দুর্গম পাহাড়ের উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনে বেশি অসুবিধা এবং ঝুঁকি নিয়ে কৃষকদের চলতে হচ্ছে। ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় গরিব কৃষকদের।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী (আ.দ.) ফজলুল হক বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে ২১-২২ অর্থবছরে ব্রিজ দুটি নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে ব্রিজ দুটি নির্মাণের জন্য আমি ফের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
দীঘিনালা ইউএনও ইনামুল হাছান বলেন, ব্রিজটি সরেজমিন দেখেছি। ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের অসুবিধা হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।