হাসিব আল আমিন, নোয়াখালী
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১২:৪৬ পিএম
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাটে বাজারে কিছু ইলিশ পাওয়া গেলেও দাম ছিল মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
ভরা মৌসুমেও নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরে ইলিশের দেখা নেই। প্রতিবছর এ সময়ে নদী-সাগরজুড়ে ইলিশের ছড়াছড়ি থাকে। তবে এবার জেলেদের জালে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়ছে না। এতে জেলেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিন হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সবচেয়ে বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫০০-২৭০০ টাকায়। এক কেজির নিচের মাছও ১৮০০-২০০০ টাকার কম নয়। নোয়াখালীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছেÑ দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ২৮০০ টাকা, ১ কেজি ২০০ গ্রামের ইলিশ ২৪০০ টাকা, কেজি ওজনের মাছ ২২০০ টাকা, ৮০০ গ্রামের ইলিশ ১৯০০ টাকা এবং ৬০০ গ্রামের ইলিশ ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিন হাজারও জেলে নদী ও সাগরে গেলেও অনেকেই খালি হাতে ফিরছেন। যে নৌকায় সামান্য মাছ ধরা পড়ছে, তা দিয়ে জ্বালানি খরচ ও শ্রমিকের মজুরি মেটানোই কঠিন হয়ে পড়ছে।
হাতিয়ার জেলে কামাল উদ্দিন মাঝি বলেন, ভরা মৌসুমে এত খালি জাল কোনো দিন দেখিনি। ৫০-৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সাগরে গেছি। কিন্তু খরচই উঠছে না। পরিবার চালানোই এখন কষ্টকর হয়ে পড়ছে।
পৌরবাজারে ইলিশ কিনতে আসা শাহিন উদ্দিন বলেন, ইলিশ সত্যিই এখন স্বপ্নের মাছ। দাম এত বেড়েছে যে মধ্যবিত্ত পরিবারও কিনতে পারছে না। গরিব মানুষের পক্ষে স্বপ্ন দেখাও কঠিন।

ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় শুধু জেলেরা নয়, বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী, আড়তদার ও শ্রমিকরাও। অনেক আড়তদার ঋণ করে নৌকা ও জাল কিনেছিলেন। এখন ধার শোধ করতেই হিমশিম খাচ্ছেন।
চেয়ারম্যান ঘাটের মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী আকবর হোসেন বলেন, ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল। এটা জেলেদের জন্য বড় দুঃসংবাদ। জেলে, ব্যবসায়ী, আড়তদার, শ্রমিক-সবাই ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। অনেকে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।
হাতিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা ফাহাদ হাসান বলেন, ডুবোচর, অনুকূল আবহাওয়া না থাকা, অতিরিক্ত মাছ শিকার এবং পরিবেশগত পরিবর্তনে ইলিশের প্রজনন ও মজুদে প্রভাব পড়ছে। তবে পরিস্থিতি শিগগিরই উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইলিশ গবেষক ড. মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বলেন, ইলিশ পরিভ্রমণশীল মাছ, পথে বাধা পেলেই ফিরে যায়। সাগর-মোহনায় চর সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তন ও মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণে ইলিশের আগমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নিষিদ্ধ জাল নিয়ন্ত্রণ ও নদী দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংকট আরও বাড়বে।