নাছির উদ্দিন, কচুয়া (চাঁদপুর)
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১২:৩১ পিএম
কচুয়ায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রবা ফটো
চাঁদপুরের কচুয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক স্থানে ফসলি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের হিড়িক পড়েছে। স্থানীয়রা বলেন, অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও উপজেলা প্রশাসন নিষ্ক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে ড্রেজার মালিক ও বালু ব্যবসায়ীদের কারণে হুমকিতে আছে বহু ফসলি জমি। ফসলি জমি নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন অনেক কৃষক। ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ও ফসলি জমি রক্ষায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সহায়তা চেয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
গতকাল শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার সাচার ও বিতারা ইউনিয়নের বুজড়ীখোলা, রাগদৈল, দুর্গাপুর, বাইছারা ও বিতারার ঘুগড়া বিলে প্রায় ১২টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালুখেকোরা বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন।
উপজেলার সবচেয়ে বড় ফসলি মাঠ ঘুগরার বিল এখন অবৈধ ড্রেজার মেশিনের দখলে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালুখেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান না চালানোর কারণে কৃষকরা ফুঁসছেন। পাশের পাথৈর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের দক্ষিণ পশ্চিম পাশে মিয়াজী বাড়ির সঙ্গে ফসলি মাঠ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বেচছে বালুখেকোরা।
একই ইউনিয়নের আটোমোড় বাজারের উত্তর-পশ্চিম পাশে ফসলি মাঠে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বেবছে প্রভাবশালী মহল। ওই এলাকার কৃষকরা নিরুপায় হয়ে উপজেলা ইউএনও এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো কাজ হয়নি। এ ছাড়াও কচুয়া উত্তর ও সদর দক্ষিণ ইউনিয়নের তেতৈয়া, দোয়াটি, ঘাগড়া ও রাজাপুর ফসলি মাঠে অবৈদভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
পালাখাল মডেল ইউনিয়নের কচুয়া-সাচার সড়কের পশ্চিম পাশে বাছাইয়া আলী আশ্রাফ ব্রিকফিল্ডর সঙ্গে ফসলি জমি নষ্ট করে অনেক দিন ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মানুষ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তেতৈয়া গ্রামের একাধিক কৃষক বলেন, তেতৈয়া, ঘাগড়া ও দোয়াটি ফসলি মাঠে কয় বছর ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বালুখেকোরা। স্থানীয় প্রশাসন কয়েক বার অভিযান চালালেও পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, ফের বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বজুরীখোলা ও সাচারের কৃষকরা বলেন, ভূমি অফিস, সাচার পুলিশ ফাঁড়ি ও কিছু সংবাদকর্মীদেরকে ম্যানেজ করে বছরের পর বছর ধরে বালুখেকোরা তৎপর রয়েছে। এগুলো দেখার কেউ নেই। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু নাছির বলেন, উপজেলায় কেউ ফসলি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে বালু তুলতে পারেন না। বালুখেকোদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।