× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দেশীয় মাছের সংকটে শুঁটকি উৎপাদনে ধসের শঙ্কা

আশরাফুল ইসলাম কহিনুর, হবিগঞ্জ

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১১:৪১ এএম

হবিগঞ্জের হাওর অঞ্চলে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় যৎসামান্য পাওয়া মাছ শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণে ব্যস্ত জেলে পরিবার। প্রবা ফটো

হবিগঞ্জের হাওর অঞ্চলে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় যৎসামান্য পাওয়া মাছ শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণে ব্যস্ত জেলে পরিবার। প্রবা ফটো

হবিগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে শুঁটকি শিল্প। জেলার বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই, বাহুবল, নবীগঞ্জ ও সদর উপজেলার প্রায় দুই হাজার পরিবার শুঁটকি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকলেও এ বছর হাওরে পানি কম থাকায় দেশীয় মাছের সংকটে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। ফলে শুঁটকি উৎপাদন কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন শুঁটকি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলো।

জেলার বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই, বাহুবল, নবীগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন হাওর-বিল থেকে পুঁটি, চিংড়ি, বাইম, শইল, গজার, টেংরাসহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ আহরণ করে শুঁটকি তৈরি করে থাকেন মৎস্যজীবীরা। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই শুঁটকি ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় এর কদর সারা দেশেই বেশি। প্রতি মণ শুঁটকি পাইকারি বাজারে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় এবং খুচরা বাজারে ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মাছের সংকট ও উচ্চ মূল্যে কাঁচামাল কিনে শুঁটকি তৈরি করায় এখন আর লাভ থাকছে না বলে জানান উৎপাদনকারীরা।

স্থানীয়রা জানান, হবিগঞ্জে উৎপাদিত শুঁটকিতে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। তাই এর স্বাদ ও কদর সব সময় আলাদা। কিন্তু এ বছর শুঁটকি উৎপাদনকারীদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। কারণ হাওরে এবং নদ-নদীতে পানি কমে যাওয়ায় চাহিদামতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার চাহিদা সম্পন্ন মাছের দাম অনেক বেশি।

হবিগঞ্জ শহরের উমেদনগর হাটের শুঁটকি আড়তদার কামরুল ইসলাম বলেন, আগে এই হাটে নানা রকমের শুঁটকি বিক্রি হত, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা আসতেন শুঁটকি কিনতে। হবিগঞ্জের শুঁটকির কদর আলাদা। বর্তমানে হাওর, বিল ও নদীতে মাছ কমায় শুঁটকির উৎপাদনও হ্রাস পেয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, এ জেলায় অনেক নদী, বিল, হাওরসহ বিস্তীর্ণ জলাশয় রয়েছে। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষিত কালো পানি প্রাকৃতিক জলাশয়ে প্রবেশ করছে। এ ছাড়া জমিতে অধিক পরিমাণে কীটনাশকের অপব্যবহার, শিল্প-কারখানার দূষিত পানি ও জলাশয় ভরাটের ফলে মাছ কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শুঁটকি শিল্পে। এসব কারণে বর্তমানে প্রাকৃতিক জলাশয়ে দেশীয় মাছের পরিমাণও যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে শুঁটকি উৎপাদনও।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলায় প্রাকৃতিক জলাশয়ের পরিমাণ ৮১ হাজার ৬৭১ হেক্টর। এক দশক আগে (২০১২ সালে) দেশীয় মাছের উৎপাদন ছিল ৩৩ হাজার ৬৯৩ মেট্রিক টন, যা বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ১৬৭ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ গত এক দশকে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন কমেছে ৭ হাজার ৫২৬ মেট্রিক টন।

হবিগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার বলেন, নদী, খাল, বিল, হাওর কমে আসছে। এখন হাওরে মাছই খুব একটা পাওয়া যায় না। খাবারের মাছের বড় জোগান দেয় চাষ করা মাছ, যে কারণে হবিগঞ্জে শুঁটকি কমে আসছে। হয়তো কয়েক বছর পর আর দেশী মাছের শুঁটকি পাওয়া যাবে না। সাগরের মাছের শুঁটকিতেই স্বাদ নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য হাওরে বিভিন্ন ধরনের অভিযান করছি। বিশেষ করে পোনা মাছ সংরক্ষণের জন্য। যদি পোনা মাছ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়, তাহলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। মাছের উৎপাদন বাড়াতে হাওরে পোনা মাছ সংরক্ষণ ও চায়না দুয়ারি, কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা