পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫ ১৯:০০ পিএম
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৫ ১৯:১৭ পিএম
ছেলে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তারই প্রভাব খাটিয়ে মসজিদের কেনা ৮ শতক জমি অন্যকে দখল করে দিয়ে মসজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবা ইয়াসিন আলীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, জমি দখলে নিতে আদালতে মামলা দায়ের করে মসজিদ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দিতেও সংশ্লিষ্টদের ইন্ধন দিয়েছেন বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের মোকরারি পাড়া জামে মসজিদের সামনে কামারহাট-ডাবরভাঙ্গা সড়কের উপর দাঁড়িয়ে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনের আয়োজন করে মসজিদের মুসল্লিরা।
মানববন্ধনে মোকরারি পাড়া জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওসমান গনি, সাধারণ সম্পাদক ময়নুল ইসলাম, মসজিদের সাবেক সভাপতি খামির উদ্দীন, মসজিদের দাতা সদস্য জামাল হোসেন, মুসল্লি বেলাল হোসেন, ময়দুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে মসজিদ কমিটির সভাপতি ওসমান গণি অভিযোগ করে বলেন, আমরা দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে এই মসজিদে নামাজ আদায় করে আসছি। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মসজিদ সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেই। এজন্য গত দুই বছর আগে মসজিদসংলগ্ন নতুন করে ১০ শতক জমি কিনে নেওয়া হয় হামিদুর রহমানের স্ত্রীর কাছে সাড়ে ৫ লাখ টাকায়। পরে জমিতে থাকা বাঁশঝাড় কেটে, খানাখন্দ বন্ধ করে মাটিও ভরাট করা হয়। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। মসজিদের কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় সফিকুল ইসলাম সলু ও তার ভাই হকিকুল ইসলাম কেনা জমির ৮ শতক নিজেদের দাবি করে। পরে এ নিয়ে বিভিন্নভাবে সালিশে বসা হয়। সমাধানও হয়। জমি রেজিস্ট্রি করাও হয়েছে মসজিদের নামে। মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করার লক্ষ্যে দুই টন রডও কেনা হয়েছে। কিন্তু ৫ তারিখের পর থেকে ঝলই শালশিরি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বাবা ইয়াসিন আলী ছেলের প্রভাব খাটিয়ে হকিকুল ও সফিকুলকে আবারো জমি নিজেদের দাবি করতে সরাসরি মদত ও ইন্ধন দেন। পরে আদালতে মামলা করিয়ে মসজিদ নির্মাণে বাধা ও নিষেধাজ্ঞা প্রদান করান।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা সমাজবাসী চাঁদা দিয়ে জমি কিনলাম। এখন সবাই মিলে মসজিদটি স্থায়ী পাঁকাকরণের কাজ শুরু করতে চাচ্ছি। কিন্তু হকিকুল ও সফিকুল ইয়াসিনের পরামর্শে আমাদের কাজে বাধা প্রদান করছে। আমরা এ্সিল্যান্ডের কাছে গেছিÑ সেখানেও আমরা রায় পেয়েছি। কিন্তু তারা এ রায় মানে না। কোর্টে মামলা করল। তাদের কোনো কাগজ নেই অথচ জমির মালিকানা দাবি করছে। আমরা ইয়াসিনসহ এসব চক্রান্তকারীদের বিচার চাই। সেই সঙ্গে তাড়াতাড়ি যেন মসজিদ নির্মাণ করতে পারি সেজন্য সবার সহযোগিতা চাই।
মসজিদের দাতা সদস্য জামাল হোসেন বলেন, আমরা জমির মূল মালিক। নিজেদের প্রয়োজনে জমিটি আমারই ছোট ভাইয়ের কাছে বিক্রি করি। পরে সে তার স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়। কিন্তু মসজিদ নতুন করে নির্মাণ করতে চাইলে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে জমিটি কিনে নেয় মসজিদ কমিটি। অথচ হকিকুল ও সফিকুল জমির মালিকই না। কিন্তু ইয়াসিন তাদের নাচাচ্ছে। তারা এখন জমির মালিক দাবি করে মসজিদ নির্মাণে বাধা দিচ্ছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইয়াসিন আলী বলেন, ছেলের চাইতে আল্লাহর রহমতে আমার যথেষ্ট প্রভাব আছে। আমি কারো নাম ভাঙ্গাই না, প্রভাব খাটাই না। যারা অভিযোগ করতেছে তাদের মধ্যে কয়েকজন আছে আওয়ামী লীগের দালাল। আমাদের ইউপি চেয়ারম্যানের চামচা। আমাদের বিএনপিরও একজন আছে চেয়ারম্যানের চামচা। তারা আমার নামে এসব ছড়াচ্ছে। মসজিদের নানা সমস্যার কারণে আরো তিনটি মসজিদ হইছে আশপাশে। আর জাল দলিল করে জমি রেজিস্ট্রি করেছে কয়েকজন। কাগজপত্রই প্রমাণ দেবে জমি কার। আমি কাউকে জমি দখলে ইন্ধন দেইনি।
জমির মালিকানা দাবি করা সফিকুল ইসলাম সলু বলেন, আমাদের জমির কাগজপত্র জাল করে হামিদুর রহমানসহ তাদের লোকজন বিক্রি করেছে। মূলত জমির মালিক আমরা। কিন্তু আমাদের জমি না দেওয়ায় কোর্টে মামলা করে দিয়েছি। আপনারা কাগজপত্র দেখবেন তারপরে কথা হবে। মসজিদের জমি নিয়ে তো ছলচাতুরী করা যায় না। আমাকে কেউ জমি দখল করতে পরামর্শ দেয়নি।