× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নাইক্ষ্যংছড়ির উপবন লেক

অবহেলায় ঝুঁকিতে পানি সরবরাহ, পর্যটনে ভাটা

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব, নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দারবান) থেকে

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫ ১৬:২৪ পিএম

অবহেলায় ঝুঁকিতে পানি সরবরাহ, পর্যটনে ভাটা

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার উপবন পর্যটন লেক একসময় ছিল পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র। পাহাড়ি সবুজে ঘেরা শান্ত লেকটি স্থানীয়দের কাছে যেমন বিনোদনের জায়গা, তেমনি পুরো উপজেলাবাসীর পানির একমাত্র উৎস। কিন্তু বছরের পর বছর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন লেকটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। এতে যেমন পর্যটনে ভাটা পড়েছে, তেমনি পানির মান নিয়েও দেখা দিয়েছে গুরুতর শঙ্কা।

লেকের পাড় ভাঙছে, পানি দূষিত

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লেকের পাড়ের একাধিক অংশ ভেঙে গেছে। বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল এসে লেকের ভেতর জমা হয় মাটি, প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ নানা বর্জ্য। এতে পানির স্বচ্ছতা নষ্ট হচ্ছে, মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির পরিমাণ কমে গিয়ে পৌর এলাকায় সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর ফলে পানির সংকটে ভোগেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ২৫–৩০ হাজার মানুষ।

ঝুলন্ত সেতুতে ঝুঁকি

উপবন লেকের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মাঝ বরাবর ঝুলন্ত সেতুটি। কিন্তু বর্তমানে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কাঠ ও লোহার অনেক অংশ ক্ষয়ে গেছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। এ কারণে পর্যটকেরা আসলেও সেতুর কাছে যেতে ভয় পাচ্ছেন। আগে যেখানে সপ্তাহে অন্তত ৮০০ থেকে এক হাজার পর্যটক আসতেন, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে কয়েকশতে।



নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরে প্রতিদিন যে পানির সরবরাহ হয়, তার বড় অংশই আসে এই উপবন লেক থেকে। অথচ আধুনিক কোনো পানি শোধনাগার এখনও স্থাপন করা হয়নি। ফলে পানির গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক সময় সরাসরি অপরিশোধিত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এতে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

উপজেলা সদরের গৃহিণী আসমা বেগম বলেন, ‘এই লেকের পানি দিয়েই রান্না-বান্না করি। অনেক সময় পানিতে ময়লা থাকে। আধুনিক ফিল্টার প্ল্যান্ট হলে আমরা নিরাপদ পানি পেতাম।’

লেকপাড়ের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আগে এখানে প্রচুর ভিড় হতো। এখন পর্যটকেরা হতাশ হয়ে ফিরে যান। লেকের পানি দূষিত, সেতু ঝুঁকিপূর্ণÑ এভাবে আর কতদিন চলবে?’

স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘লেকের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ এটি সংস্কার করলে শুধু পর্যটন নয়, আমাদের অর্থনীতিও বদলে যাবে। স্থানীয় দোকান, রিসোর্ট, গাইড সবাই উপকৃত হবে।’

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের একাধিক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, উপবন লেক সংস্কারের জন্য গত পাঁচ বছরে তিনবার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০২২ সালে তিন কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছিল। এতে লেকের ড্রেজিং, ঝুলন্ত সেতু নতুনভাবে নির্মাণ এবং একটি আধুনিক ওয়াটার ফিল্টার প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাজেট অনুমোদন না হওয়ায় সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘লেক সংস্কার, ঝুলন্ত সেতুর মেরামত এবং আধুনিক পানি শোধনাগার স্থাপনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও তহবিল বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।’

পর্যটন ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, উপবন লেক কেবল একটি বিনোদনকেন্দ্র নয়, এটি নাইক্ষ্যংছড়ির প্রাণকেন্দ্র। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে একদিকে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে পানির নিরাপত্তা ও গুণগতমান নিয়ে বড় সংকট তৈরি হবে।

বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, ‘উপবন লেককে অবহেলায় ফেলে রাখা মানে পুরো উপজেলাকে ঝুঁকিতে ফেলা। এখানে ড্রেজিং, পানিশোধন প্ল্যান্ট এবং আধুনিক নিরাপত্তা অবকাঠামো এখনই জরুরি।’

সরেজমিন জানা যায়, বর্তমানে বান্দরবানের অন্যান্য পর্যটন এলাকায় সরকার ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা উন্নয়নকাজ হলেও নাইক্ষ্যংছড়ির উপবন লেক অবহেলায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশাÑ দ্রুত সংস্কার ও আধুনিকায়ন হলে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে লেকটি। এতে যেমন নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা আসবে, তেমনি নতুন করে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে নাইক্ষ্যংছড়ির এই সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা