নীলফামারীর ডোমার
আরফিনুল ইসলাম, নীলফামারী
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫ ১৫:১৩ পিএম
খানাখন্দ কাদায় পূর্ণ নীলফামারীর ডোমারের বর্তমান বাসস্ট্যান্ড। প্রবা ফটো
নীলফামারীর ডোমার এক সময়কার প্রসিদ্ধ স্থলবন্দর হলেও স্বাধীনতার প্রায় পাঁচ দশক পরও এখানে নেই একটি স্থায়ী বাস টার্মিনাল। সরকারি জমি বরাদ্দ ও ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলেও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও প্রভাবশালীদের দখলদারিত্বে থমকে আছে প্রকল্পটি। এতে যাত্রীসেবা ভেঙে পড়েছে, দুর্ভোগ বাড়ছে পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের। বর্ষায় কর্দমাক্ত অস্থায়ী টার্মিনালে নেমে দুর্যোগের মুখে পড়ছেন যাত্রীরা। ফলে সাধারণ যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও মালিক সবাইকে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। প্রশাসন বলছে, আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ডোমারকে ৩০ বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পৌরসভায় উন্নীত করা হয়। পৌরবাসীর যাতায়াত সেবা নিশ্চিতে একই সময় বাস টার্মিনাল নির্মাণে সরকারি ৪টি দাগে ১.১৩ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যাত্রীদের সুবিধার্থে স্থায়ীভাবে একটি পাকা ভবনও নির্মাণ করে। কিন্তু রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে সেই টার্মিনাল আজও কার্যকর হয়নি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও সংস্কারের অভাবে ভবনটি এখন ধ্বংসের মুখে।
এদিকে বরাদ্দকৃত টার্মিনালের জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে ব্যবহার করছে। বাধ্য হয়ে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা ভাড়া জায়গায় অস্থায়ী টার্মিনাল চালাচ্ছেন। এতে একদিকে পৌর এলাকা ও প্রধান সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, অন্যদিকে যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। বর্ষা মৌসুমে অস্থায়ী টার্মিনালটি খানাখন্দ, কর্দমাক্ত অবস্থা ও জলাবদ্ধতায় ভরে যায়। নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাতায়াতের প্রয়োজনে সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে কিংবা কর্দমাক্ত স্থানে যাত্রীদের বাসে উঠা-নামা করতে হয়; যা তাদের জন্য যেমন ভোগান্তির, তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করে।
ডোমার থেকে সৈয়দপুরে নিয়মিত যাতায়াত করেন ডোমার বাজার এলাকার বাসিন্দা সোহাগ ইসলাম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন কাদা-মাটিতে ভিজে আমাদের বাসে উঠতে হয়। বৃষ্টির দিনে তো অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অথচ সরকারি জমি ও বরাদ্দ থাকলেও কেন টার্মিনাল হয়নি, তা আমাদের বোধগম্য নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডোমার উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতা বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি স্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণ। নির্ধারিত জায়গা থাকলেও রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে কাজ হচ্ছে না। এতে শ্রমিক ও যাত্রী উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ডোমারে একটি স্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণ হলে একদিকে যানজট কমবে, অন্যদিকে যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিকরা সঠিকভাবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবে।
ডোমার পৌর প্রশাসক শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, আইনশৃঙ্খলার মিটিংয়ে ইতঃপূর্বে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাস টার্মিনালের জন্য জায়গা বরাদ্দ রয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছি, পরিবহন মালিকরা যেন পূর্ব নির্ধারিত স্থানে যায়।