পেঁয়াজ সংরক্ষণ
রেজাউল করিম লিটন, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৫৫ পিএম
পেঁয়াজ সংরক্ষণের নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে সাড়া ফেলেছেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মো. আশরাফুল। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
পেঁয়াজ সংরক্ষণের নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে সাড়া ফেলেছেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মো. আশরাফুল। নিজের বাড়ির এক কোণে তৈরি ছোট্ট একটি ঘরে ‘এয়ার ফ্লো’ মেশিন বসিয়ে ২০০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেছেন তিনি। আধুনিক এই প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নষ্ট হয়েছে পেঁয়াজÑ যা কৃষকের জন্য এক অভাবনীয় সাফল্য।
কৃষক মো. আশরাফুল জানান, ‘এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহার করে এই বছর আমি অনেক লাভবান হয়েছি। অল্প জায়গায় প্রায় ২০০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পেরেছি; যা আগে ৫০ শতাংশই নষ্ট হতো। এবার ৫ শতাংশও নষ্ট হয়নি।’
এয়ার ফ্লো প্রযুক্তি পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় বায়ুপ্রবাহ ব্যবস্থা, যা ঘরের ভেতর নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বজায় রেখে পেঁয়াজের অঙ্কুরোদগম ও পচন রোধ করে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ৬-৮ মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ টাটকা রাখা সম্ভবÑ যা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ৩-৪ গুণ বেশি সময়। এই প্রযুক্তির বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে ওয়েভ ফাউন্ডেশন, আর্থিক সহযোগিতা করেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কৃষি কর্মকর্তা ফায়সাল মাহমুদ জোয়ার্দার জানান, এয়ার ফ্লো প্রযুক্তি পেঁয়াজ সংরক্ষণের এক আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি। এই প্রযুক্তির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলোÑ মেশিনটি ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে; যা পেঁয়াজের অঙ্কুরোদগম ও পচন রোধ করে। কম বিদ্যুৎ খরচে চালানো যায়, যা গ্রামীণ এলাকার জন্য উপযোগী।
এ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য হওয়ায় মৌসুমের বাইরে উচ্চ দামে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানিরও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলায় এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিচ্ছে ওয়েভ ফাউন্ডেশন।
চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণে এ পদ্ধতি সম্প্রসারনের আরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান যুদ্ধ।
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক ও প্রকল্পের ফোকাল পার্সন নির্মল দাস বলেন, এয়ার ফ্লো প্রযুক্তি বাংলাদেশের কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা বাড়ালে এই ধরনের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি দেশের কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। ওয়েভ ফাউন্ডেশন কৃষি ইউনিট প্রকল্পের আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুরহুদা উপজেলায় একটি ইউনিট স্থাপন করেছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর দামুড়হুদা উপজেলায় ৮৪০ হেক্টর জমিতে ২৩ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। তবে সঠিক সংরক্ষণের অভাবে এর বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়।
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, পেঁয়াজ সংরক্ষণের এই প্রযুক্তি খুবই কার্যকর। কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। সরকারিভাবে প্রণোদনা বরাদ্দ পেলে এটি আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।