× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফরিদপুরের সালথা

কুমার নদে সেতু না থাকায় দুর্ভোগে কয়েক লাখ মানুষ

সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৫৮ পিএম

ফরিদপুরের সালথায় কুমার নদের ওপর সেতু না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দুই উপজেলার মানুষ। প্রবা ফটো

ফরিদপুরের সালথায় কুমার নদের ওপর সেতু না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দুই উপজেলার মানুষ। প্রবা ফটো

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার শেষ প্রান্তে ও গোপালগঞ্জের মকসুদপুর উপজেলার মাঝে বল্লভদী ইউনিয়নের কামারদিয়া বাজার এলাকায় কামারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাশে কুমার নদের ওপর একটি সেতু না থাকায় যুগ যুগ ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দুই উপজেলার ৩ লাখেরও বেশি মানুষ।

এ কারণে এসব এলাকার মানুষ উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে তারা বঞ্চিত হয়ে আসছেন। শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা বর্ষা মৌসুমে নৌকা নিয়ে পারাপারের সময় দুর্ঘটনার পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়, আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো পারাপারেও ঘটে দুর্ঘটনা। মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এখানে বড় চ্যালেঞ্জ, থাকে মৃত্যুর ঝুঁকিও। সেতুটি নির্মাণ হলে দুই উপজেলার সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি উন্নয়নও ঘটবে এ অঞ্চলে কৃষিকাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের। বদলে যাবে মানুষের জীবনযাত্রার মান।

জেলার নগরকান্দা-সালথা উপজেলার মাঝে বল্লভদী ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে কুমার নদ। কুমার নদের ওপর একটি সেতু না থাকায় ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার উপজেলার সীমানাঘেঁষা এলাকার মানুষের চলাচলের শেষ ভরসা শুধুই বর্ষাকালে নৌকা ও শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হয় স্থানীয়দের। বর্ষা মৌসুমে দুর্ঘটনার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এই দুই উপজেলার ৩ লাখের বেশি মানুষকে।

পরিবহন সমস্যার কারণে এসব এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য নদী পাড়ি দিয়ে শহরে বিক্রিতে ঝামেলায় পড়তে হয়। এতে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে স্থানীয় কৃষক। এ নৌঘাটে স্থানীয়দের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নদী পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন। ভয়ে অনেক অভিভাবকই সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না। বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগীদের। কেউ অসুস্থ হলে নদী পাড়ি দিয়ে শহরে নিয়ে চিকিৎসা করানো কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই এখানে বড় সমস্যা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতু না থাকায় সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে ছেলেমেয়েদের ভালো ঘরে বিয়ে হয় না বলে জানান স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর দাবি, নদীর ওপর কামারদিয়া খেয়া ঘাটে কোনো ব্রিজ না থাকায় বর্ষায় ভরসা নৌকা আর খরা মৌসুমে ব্যবহার করতে হয় বাঁশের সাঁকো। এখানে একটি ব্রিজ নির্মিত হলে বদলে যাবে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। উন্নত হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাত। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের যাতায়াতে আসবে স্বস্তি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আর পার হতে হবে না কুমার নদ।

কামারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র মো. রবিউল ইসলাম জানায়, তাদের মতো অন্য এলাকা থেকে কয়েকশ ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন বর্ষাকালে খেয়া নৌকা পাড়ি দিয়ে স্কুলে যায়। সময়মতো খেয়া ধরতে না পারলে ঘাটে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। আবহাওয়া খারাপ হলে স্কুলে যাওয়া হয় না। এতে তাদের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হয়।

খেয়া ঘাটের মাঝি জমির মিয়া জানান, ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াও সামান্য বাতাসের নৌকা পারাপার বন্ধ থাকে। এ ছাড়া ঘন কচুরিপানার কারণে চলাচলের জন্য মাঝে মধ্যে পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। এখন প্রায় সব জায়গাই ব্রিজ হয়ে গেছে। শুধু এখানেই হলো না। এখানে ব্রিজ হলে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ থেকে বেঁচে যেত।

বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহিন বলেন, সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের কামারদিয়া নামক স্থানে সালথা ও মুকসুদপুর উপজেলার বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য দীর্ঘদিন থেকে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। এখানে ব্রিজ নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে পাশের এলাকায়।

সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাফর মিয়া বলেন, ওই স্থানে আইডি ভুক্ত রাস্তা নেই, তারপরও আমি আমার সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে পরিদর্শনে পাঠাব, দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা