মোকছেদুল মমিন মোয়াজ্জেম, হিলি (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫ ২২:৩৬ পিএম
প্রবা ফটো।
চোখের আলো হারালেও জীবনের লড়াই থেকে পিছু হটেননি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কাজেম আলী (৬০)। একসময় দৃষ্টিশক্তি থাকলেও যুবক বয়সে অন্ধ হয়ে পড়েন তিনি। বহু চিকিৎসার পরও আর চোখের আলো ফিরে পাননি। তবে হাল না ছেড়ে গড়ে তুলেছেন ভিন্ন রকম সংগ্রামী জীবন।
অন্ধ হয়েও ভরসা খুঁজে নিয়েছেন গরুর কাছে। পাঁচ বছর আগে লালন-পালনের জন্য আনা একটি ছোট গরুই আজ তার সহায়ক, তার বন্ধু, তার পথপ্রদর্শক। গরুর দেখানো পথ ধরেই প্রতিদিন মাঠে যান কাজেম আলী, আবার বাড়িতেও ফেরেন গরুর সহায়তায়।
গরুকেই নিজের সন্তানের মতো যত্ন করেন তিনি। খাওয়ানো, গোসল করানো থেকে শুরু করে মাঠে চড়ানো সব কাজই নিজের হাতে করেন। সুস্থ মানুষ যেখানে চলাফেরায় সমস্যায় পড়েন, সেখানে গরুর সহায়তায় কাজেম আলীর নির্ভুল চলাফেরা দেখে অবাক হন স্থানীয়রা।
শিবরামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খোকার ছেলে কাজেম আলী জানান, আমি কারও কাছে হাত পাততে চাই না। আমার গরুই আমার সহায়। ও-ই আমাকে মাঠে নিয়ে যায়, আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। গরুটিকে আমি নিজের সন্তানের মতো দেখি। যদি নিজের একটি গরু থাকত, তাহলে জীবনটা আরও স্বচ্ছলভাবে কাটাতে পারতাম।
গ্রামবাসী আতোয়ার হোসেন বলেন, চোখ থাকলেও আমরা অনেক সময় ভুল করি। কিন্তু কাজেম আলী গরুর সহায়তায় এতটা নির্ভুলভাবে চলাফেরা করেন যে, আমরা অবাক হয়ে যাই। সমাজের সামর্থবানরা যদি তাকে একটি গরু কিনে দেন, তবে তার সংসার কিছুটা হলেও স্বচ্ছল হবে।
একইভাবে এলাকার সাইফুল হোসেন জানান, অন্ধ হয়েও কারও কাছে হাত না পেতে কাজ করে খাচ্ছেন কাজেম আলী। আমরা যদি সামান্য সহযোগিতা করি, তাহলে তার জীবনে বড় পরিবর্তন আসবে।
গ্রামবাসী আমিনুল ইসলাম বলেন, অন্ধ হলেও কাজেম আলীর জীবিকা নির্বাহ সমাজের জন্য অনন্য উদাহরণ। দৃঢ় মনোবল আর পরিশ্রমেই তিনি টিকে আছেন। সামর্থবান ব্যক্তিরা পাশে দাঁড়ালে তার সংগ্রাম আরও সহজ হবে।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শুভ্র প্রকাশ চক্রবর্তী বলেন, কাজেম আলীকে ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। সমাজসেবার অধীনে থাকা অন্যান্য সুবিধাও ধাপে ধাপে দেওয়া হবে। আমরা চাই, কাজেম আলীর মতো সংগ্রামী মানুষ যেন আরও ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।
অন্ধ হয়েও নিজের পরিশ্রম ও গরুর সহায়তায় টিকে থাকা কাজেম আলী আজ এলাকার মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণা।