শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫ ২১:০১ পিএম
প্রবা ফটো।
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে রাসেল বাহিনীর প্রধান ১৯ মামলার আসামি মো. রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে রাসেল বাহিনীর আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সারারাত এবং শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার সীমান্তঘেঁষা সন্ধ্যাকুড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেনÑ সন্ধ্যাকুড়া এলাকার আব্দুছ সামাদের ছেলে সীমান্তের মাদক কারবারিদের ‘রাসেল বাহিনী’র প্রধান মাদক সম্রাট মো. রাসেল মিয়া (৩০), পশ্চিম সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে সাকিব আল হাসান (২০), সেলিম মিয়া (২৩), নলকুড়া রাবারড্যাম এলাকার মৃত ডা. আ. হাইয়ের ছেলে শাহাদাত হোসেন এবং কুছাইকুড়া গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে অটোচালক মোহাম্মদ আলী ওরফে আরমান (২৯)।
স্থানীয়রা জানান, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত অঞ্চলে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছে। মাদক, ভারতীয় চোরাইপণ্য, নারী পাচারের মতো ভয়ঙ্কর কাজের সঙ্গে তার বাহিনী জড়িত। তার নাম শুনলেই সীমান্তে মানুষ ভয়ে কেঁপে ওঠে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও রাসেলদের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ বাহিনীসহ সীমান্তের সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমিন জানান, দীর্ঘদিন থেকে রাসেল বাহিনী নিয়ে পুলিশ কাজ করে আসছে। গতকাল রাতে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ৩০ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও তার বাহিনীর সাকিব, সেলিম, শাহাদাত ও আরমানের কাছ থেকে আরও ২৫ বোতল মদসহ মোট ৫৫ বোতল বিদেশি মদ ও একটি অটোরিকশা জব্দ করা হয়। পাহাড়ি এ অঞ্চলে রাসেল বাহিনীর নামে বিভিন্ন চোরাকারবারি ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৯টি মামলা চলমান রয়েছে।
শেরপুর জেলা পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক জিরো টলারেন্স কার্যকর করতে দিনরাত কাজ করছে। অপরাধীদের চক্র যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।