নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৪৫ পিএম
নিহত রাহা মনি
নরসিংদীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে টনসিলের ভুল অপারেশনে রাহা মনি (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যুর হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে পৌর শহরের হেমেন্দ্র সাহার মোড় এলাকার লাইফ কেয়ার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। রাহা মনি রায়পুর উপজেলার হাঁটুভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা নিজামুল হক ও তানিয়া আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, টনসিল অপারেশনের জন্য ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রাহা মনিকে। অপারেশনের সময় এনেস্থেসিয়া দেন নরসিংদী সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুদীপ্ত সাহা এবং অপারেশন করেন নাক-কান-গলার চিকিৎসক ডা. তন্ময় কর। কিন্তু অপারেশনের প্রায় এক ঘণ্টা পরই মারা যায় রাহা মনি। পরিবারের দাবি ভুল চিকিৎসায় তাদের একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছেন। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা ক্ষুব্ধ হয়ে দুই চিকিৎসককে মারধর করে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দুই চিকিৎসককে নরসিংদী মডেল থানায় নিয়ে যায়।
একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা-মা। তারা মেয়ের জন্য বারবার বিলাপ করছেন।
শিশুটির বাবা নাজমুল হোসেন জানান, অপারেশন করার পর ডাক্তার বলছেন, ১৫ মিনিট পর জ্ঞান ফিরবে কিন্তু অনেক সময় পার হলেও মেয়ের জ্ঞান ফিরছে না। পরে ডাক্তারকে ফোন দিলে ডাক্তার এসে আমার মেয়েকে আবার ওটিতে নিয়ে যান, আমি বারবার যাওয়ার চেষ্টা করলেও আমাকে যেতে দেয়নি তারা। অনেকক্ষণ পর আমি জোর করে ওটিতে গিয়ে আমার মেয়ের পায়ে হাত দিয়ে দেখি পা ঠান্ডা, তখনি আমি বুঝতে পারি আমার মেয়ে আর বেঁচে নেই। আমার মরা মেয়েকে ঢাকায় নিতে হবে, আইসিউতে রাখতে হবে বলে আমাদের সঙ্গে তারা ছলচাতুরী করতে থাকে। আমি বুঝতে পারি তারা আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে।
লাইফ কেয়ার হাসপাতালের পরিচালক ফজলুল কাদের জানায়, অপারেশন করার পর বেডে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর শিশুর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। পরে তাকে আবার ডাক্তাররা চিকিৎসা দেয়। শিশুটিকে ঢাকার জন্য রেফার্ড করা হয়েছিল। এর মধ্যেই মারা যায়।
এনেস্থোলজিস্ট ডা. সুদীপ্ত সাহা বলেন, ৭টার দিকে শিশুটির টনসিলের অপারেশন সফলভাবে শেষ হওয়ার পর সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটিকে বেডে দিয়ে আমরা অপারেশন থিয়েটার থেকে চলে যাই। সাড়ে ৮টার দিকে সিস্টার ফোন দেয় বাচ্চা শ্বাস নিচ্ছে না এবং কালো হয়ে যাচ্ছে। পরে সঙ্গে সঙ্গে আমরা হাসপাতালে আসি পরে বাচ্চাটিকে জীবনরক্ষাকারী সকল ওষুধপত্র দেওয়া হয় এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয় তারপরেও বাচ্চার রেসপিরেশন আর ফিরে আসেনি। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে। ডাক্তার হিসেবে আমাদের দায়িত্ববোধ থেকে আমরা এসেছি এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি বাচ্চাটির জীবন বাঁচানোর জন্য। এনেস্থেসিয়া, অপারেশন সবকিছুই সফলভাবে করা হয়েছিল তাতে কোনো গাফেলতি ছিল না।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক জানান, লাইফ কেয়ার হাসপাতালে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে এসে দুই ডাক্তারকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আর মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।