ভোলাগঞ্জে পাথর লুট
আহমদ মারুফ, সিলেট
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৫ ২০:২৫ পিএম
সিলেটের ভোলাগঞ্জ থেকে ১৫০০ থেকে ২০০০ ব্যক্তি সাদা পাথর লুট করেছে। খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২ এবং বিধিমালা ২০১২ এর ৯৩(১) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০০০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) খনিজ সম্পদ ও পরিবেশ সচিবের পক্ষে হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়।
এতে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ১৫ আগস্ট কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ আগস্ট থেকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ১৫০০-২০০০ ব্যক্তি পাথর নিয়ে গেছে। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে পরিবেশগত আর্থিক ক্ষতি নিরূপণে অতিরিক্ত সচিব (অপারেশন), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আহ্বানে বুয়েটের একজন অধ্যাপকসহ ৬ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়।
জেলা প্রশাসক এভিডেভিট দাখিল করে আদালতকে অবগত করেন যে, পাথর প্রতিস্থাপনের কাজ চলমান আছে, দায়ী ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং ভোলাগঞ্জের পাথর কোয়ারি এরিয়া নজরদারি করা হচ্ছে।
পত্রিকায় পাথর লুটের সংবাদ প্রকাশিত হলে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ রিট পিটিশন দায়ের করলে গত ১৪ আগস্ট হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পাশাপাশি সাত দিনের মধ্যে লুট হওয়া পাথর সংগ্রহ করে ভোলাগঞ্জের নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিস্থাপনে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসন, বিজিবি, র্যাবসহ মোট পাঁচজনকে পাথর লুটের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা তৈরি করে এফিডেভিট আকারে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেন।
পরিবেশ সচিব ও খনিজ সম্পদ সচিবকে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে যেখানে বুয়েটের একজন প্রফেসর থাকবেন, তাদের মাধ্যমে পাথর সরানোয় পরিবেশের কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে- তা নিরূপণ করে ২ মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
পাথর উত্তোলন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা
সিলেটে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এমনটি জানানো হয়।
অবৈধ এসব কর্মকাণ্ডে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, যারা অবৈধ এসব কর্মকাণ্ডে করছে, তাদের স্মরণ করিয়ে দিতেই এই আদেশ। যাতে তারা এসব অবৈধ কাজ আর না করে।