গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৫ ২০:২২ পিএম
গাজীপুরের কড্ডা এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেনের (৩২) মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা সাতটায় তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই। তারপরও বিভিন্ন সময় গাজীপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাকে হয়রানি করত। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বুধবার সন্ধ্যায় সে তুরাগ নদীতে ঝাঁপ দেয়। আমজাদ গাজীপুর সিটির কাঁঠালিয়াপাড়ার বাসিন্দা। তিনি কড্ডা এলাকায় বালুর ব্যবসা করেন।
আমজাদের স্বজন ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে গাজীপুর মহানগরের কড্ডা এলাকায় নিজ প্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন আমজাদ। এ সময় ডিবি পুলিশের সাত-আটজন মাইক্রোবাসে এসে তার প্রতিষ্ঠান ঘিরে ফেলেন। এ সময় পালানোর চেষ্টা করেন আমজাদ। ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাকে পেছন থেকে ধাওয়া করলে তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন তিনি। পরে ডিবির সদস্যরা চলে গেলে তার স্বজন ও এলাকাবাসী রাতভর তুরাগ নদে খোঁজাখুঁজি করেন। খুঁজে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে থেকে প্রায় ৪-৫ কিলোমিটার দূরে একটি পাওয়ার প্লান্টের পাশে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার লাশ উদ্ধার করে।
গোয়েন্দা পুলিশের ভাষ্যমতে, সম্প্রতি গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা অবনতি হওয়ায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পুলিশের একাধিক টিম টহল দেওয়া শুরু করে। বুধবার সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশের একটি টিম কড্ডা এলাকায় মাইক্রোবাস নিয়ে অবস্থান করলে ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন ভয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। ওই সময় সে কোথায় দৌঁড়ে গিয়েছিল, সেটা আমাদের জানা ছিল না।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের প্রধান মো. ইদ্রিস আলী বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমজাদের লাশ নদীর পাশে দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে আমরা লাশটি উদ্ধার করি।
কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহউদ্দিন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।