দিনাজপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৫ ১৯:৫১ পিএম
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৫ ২১:৪০ পিএম
দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় ‘জীবন মহল’ নামে একটি বিনোদন পার্কে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকালে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় একজন সংবাদকর্মীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে দুটি মাইক্রোবাস ও ৫ জন সংবাদকর্মীর মোটরসাইকেল।
জানা গেছে, ওই বিনোদন পার্কে অসামাজিক ও ইসলামবিরোধী কার্যকলাপের প্রতিবাদে সমাবেশ করে তৌহিদী জনতা। ওই সমাবেশে হামলা হলে বিনোদন পার্কে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট ওই পার্কে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। এ সময় জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে দুজন নারী ও পাঁচজন পুরুষসহ মোট সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান ও পার্কের মালিক আনোয়ার হোসেন ওরফে জীবন চৌধুরীকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এরই প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল বিকালে পার্কের প্রধান ফটকে সেবক পার্টির ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে জীবন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেন তার অনুসারীরা।
এদিকে একই সময়ে জীবন মহল পার্কের প্রধান ফটকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী জীবন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন তৌহিদী জনতার সমর্থকরা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, দুপুর আড়াইটা থেকে জীবন চৌধুরীর সমর্থকরা প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করছিলেন। বেলা ৩টায় তৌহিদী জনতার ব্যানারে সাত শতাধিক মানুষ বিভিন্ন দিক থেকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সুযোগে বিনোদন পার্কের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে কিছু মালামাল লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তৌহিদী জনতার অনুসারীরা জীবন চৌধুরীর গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে সাড়ে ৫টার দিকে অবরোধ তুলে নেন তারা।
তৌহিদী জনতার পক্ষে মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘জীবন চৌধুরীর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে জীবন মহলে অসামাজিক কাজ ও দরবার শরিফের নামে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ চলছে। আমরা শুধু শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে গিয়েছিলাম, কিন্তু তার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা আমাদের সাতজনকে আহত করেছে। পরে আমরা বাধ্য হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ করি।’
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হোসেন বলেন, ‘কয়েকদিন আগে এখানে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে, মামলা দিয়েছে, জরিমানাও করেছে। আজকে ঈমান আকিদার সাথে থাকা হুজুররা একত্রিত হয়ে একটা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। তারা আমার কাছে ওয়াদাও করেছে কোনো প্রকার গ্যাঞ্জামে যাবে না। কিন্তু জীবন চৌধুরী বাইরে থেকে লোক এনে জড়ো করেছে এবং উত্তেজিত হয়ে হুজুরদের ওপর আক্রমণ করেছে। তখন হুজুররাও আক্রমণ করেছে। আমরা সকলকে উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেছি।’
পুলিশ সুপার বলেন, ‘কোনো পক্ষ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যদি মামলা করতে চায় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’