ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৫ ১৯:২৬ পিএম
ফেনীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালের চরম অবহেলার শিকার হয়েছেন ফরিদা ইয়াসমিন (৪০) নামে এক গৃহবধূ। সিজারিয়ান অপারেশনের সময় তার পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ সাত মাস পর আরেকটি হাসপাতালে পুনরায় অপারেশন করে তার পেট থেকে প্রায় এক কেজি ওজনের এক ফুট দীর্ঘ গজ বের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে শহরের আল-কেমী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারের বিরুদ্ধে ফেনী জেলা সিভিল সার্জন এবং ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ ফেব্রুয়ারি। ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর গ্রামের প্রবাসী মহি উদ্দিনের স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন ফেনী শহরের আল-কেমী হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন। ওই সময় অপারেশন করেন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তাসলিমা আক্তার। কিন্তু অপারেশনের সময় অসাবধানবশত রোগীর পেটে একটি গজ রেখে সেলাই করা হয় বলে অভিযোগ।
অপারেশনের চার দিন পর তাকে বাড়ি পাঠানো হয়। কিন্তু বাড়ি ফেরার পর থেকেই শুরু হয় তীব্র পেটব্যথা। বিষয়টি জানানো হলে ডা. তাসলিমা তাকে শুধু ব্যথানাশক দিয়ে পুনরায় বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
এরপর দীর্ঘ সাত মাস ধরে রোগীকে নিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসক ও হাসপাতাল ঘুরে অবশেষে পেটের ভেতরে ‘অদৃশ্য বস্তু’ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। শেষ পর্যন্ত, বুধবার রাতে ফেনী শহরের আল বারাকা হাসপাতালে সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আজিজ উল্লাহ ভুক্তভোগী ফরিদা ইয়াসমিনকে অপারেশন করে পেট থেকে প্রায় ১ কেজি ওজনের ১ ফুট একটি গজ বের করে।
রোগীর স্বামী মহি উদ্দিন জানান, গত ৭ মাসে চিকিৎসা, পরীক্ষা, ওষুধ বাবদ প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এতে আমাদের পরিবার ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছে।
রোগীর ভাই মো. শাহ ফয়সাল বলেন, আমার বোনের শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক যে ক্ষতি হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. তাসলিমা আক্তারকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।