গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৫ ১৯:০২ পিএম
গাজীপুরের কড্ডা এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের ধাওয়া খেয়ে এক ব্যবসায়ী তুরাগ নদে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। নিখোঁজ আমজাদ হোসেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাঠালিয়াপাড়া এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে। তিনি কড্ডা এলাকায় বালুর ব্যাবসা করেন। তার দুই ছেলে ও স্ত্রী রয়েছে।
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কড্ডা এলাকায় নিজ প্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন বালু ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন। এসময় একটি মাইক্রোবাসে ৭-৮ জন লোক নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চারপাশ ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে তারা আমজাদকে আটক করতে গেলে তিনি দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এসময় তাকে পেছন থেকে ধাওয়া করা হয়। একপর্যায়ে আমজাদ কড্ডা এলাকায় তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দেওয়া লোকজন চলে গেলে ব্যবসায়ীর স্বজন ও এলাকাবাসী রাতভর নদে খোঁজাখুঁজি করেন। স্থানীয়রা তাকে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দেন। বৃহস্পতিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ আমজাদকে উদ্ধার করা যায়নি।
স্বজনদের দাবি, আমজাদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই। তারপরও গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে বিরক্ত করত। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাকে ধরতে ডিবি পুলিশ এলে তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে আমজাদ নদীতে ঝাঁপ দেন।
নিখোঁজ আমজাদের পিতা ইদ্রিস আলী বলেন, ‘আমার ছেলেরে কতদিন ধইরা ডিবি পুলিশ ধইরা টেহা নেওয়ার চেষ্টা করতাছে। আমার বাবায় ডিবির পুলিশের কাছ থাইক্যা বাচার লাইগা নদীতে ঝাপ দিছে। এহনও আমার বাবারে খুইজ্যা পাইতাছিনা।’
টঙ্গী ডুবুরী দলের লিডার মো. ইদ্রিস আলী বলেন, নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ব্যবসায়ী আমজাদকে এখনও পাওয়া যায়নি।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন আলম বলেন, যে ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন তার বাড়ি আমার থানা এলাকায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে কোনাবাড়ি থানা এলাকায়।
কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. সালাহউদ্দিন বলেন, নিখোঁজের পরিবার থানায় এসেছিল সাধারণ ডায়েরি করতে। কারা তাকে ধাওয়া করেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।