মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৫ ১৬:২১ পিএম
টানা বৃষ্টিতে মরে গেছে মরিচ গাছ। প্রবা ফটো
দেশের অন্যতম মরিচ উৎপাদন অঞ্চল ফরিদপুরের মধুখালীতে গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মরিচ চাষিরা। উপজেলার মেগচামী, চরমেগচামী, বসমসী, রুকুনী, জগন্নাথদী, চরবামুন্দি, মধুপুর, শিবপুর, গোপীনাথপুর, কোরকদী, রামদিয়া, বৈকুণ্ঠপুর, ঘোষকান্দি, মহিষাপুর, চরমহিষাপুর, আশাপুর, মথুরাপুর, বেলেশ্বর, বাগাট ও ঘোপঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এতে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় দাম বেড়ে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ মরিচের হাট মধুখালী বাজারে গত শুক্রবার প্রতি মন (৪০ কেজি) কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৯–১০ হাজার টাকায়।
মেগচামী গ্রামের মরিচ চাষী মো. সেরাপ সেখ বলেন, ‘আমার দুই একর জমির মরিচ গাছে পানি জমে মরে যাচ্ছে।’ একই গ্রামের চাষি আমিরুল ইসলাম সরদার জানান, ভালো ফলন হয়েছিল, দামও পাচ্ছিলাম, কিন্তু বৃষ্টিতে সব শেষ। মহিষাপুর গ্রামের চাষি মো. তোজাম্মেল মণ্ডল বলেন, দুই একরের বেশি জমির মরিচ নষ্ট হয়েছে। এখন ৫০ শতক জমিতে কিছুটা মরিচ আছে, দাম ভালো থাকায় কিছুটা লাভ হচ্ছে।
মধুখালী বাজারের ব্যবসায়ী কিয়ামউদ্দিন কেয়া বলেন, বাজারে আমদানি কম থাকায় দাম বেড়েছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গৌতম বসু জানান, প্রচুর বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে মরিচ গাছ মারা যাচ্ছে। এতে কৃষকদের বড় ক্ষতি হয়েছে। আরেক কর্মকর্তা মাহফুজ আলম বলেন, সাধারণত উঁচু জমিতে মরিচ চাষ করা হলেও এবার অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতি হয়েছে।
মধুখালী মরিচ আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি মো. হায়দার আলী মোল্যা বলেন, এই সময়ে দেশের বড় একটি চাহিদা মেটাতো মধুখালীর মরিচ। কিন্তু বৃষ্টির কারণে বাজারে মরিচ আসছে খুবই কম, ফলে দাম বেড়েছে।
মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহবুব এলাহী জানান, এ বছর উপজেলায় ২০ হাজার ৪০০ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছিল, যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার মেট্রিকটন উৎপাদন। কিন্তু বৃষ্টির কারণে প্রায় ৪ হাজার ৮০ বিঘা জমির মরিচ নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, মধুখালীতে মূলত খালকুলা জাতের মরিচ হয়, যা ঝাল বেশি হওয়ায় ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয়। এখানকার মরিচ শুধু দেশের বিভিন্ন জেলা নয়, বিদেশেও সরবরাহ করা হয়।