সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৪৯ পিএম
সারা বছর কাদার মধ্য দিয়েই সাড়াসিয়া বাজার সড়কটিতে চলতে হয় স্থানীয়দের। সম্প্রতি তোলা
সাধারণত খাল, নদী বা পানির ওপর দিয়ে মানুষজন পারাপারের জন্য সাঁকো থাকে। কিন্তু টাঙ্গাইলের সখীপুরের কাঁকড়াজান ইউনিয়নের জিতেশ্বরী-বড়বাইদপাড়া হয়ে সাড়াসিয়া বাজার সড়কের জয়নাল ডাক্তারের বাড়ির কাছে সড়কের কাদা এড়াতে স্থানীয়রা গাছ দিয়ে সাঁকো নির্মাণ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, মাত্র ৮০০ মিটার কাঁচা সড়ক পাকা হলে উপজেলা শহর সখীপুর যেতে ওই এলাকার লোকজনের ১৫ কিলোমিটার সড়ক অতিরিক্ত ঘুরতে হবে না।
জিতেশ্বরী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান জানান, ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত গ্রাম হচ্ছে জিতেশ্বরী। এখান থেকে বড়বাইদপাড়া যেতে মাত্র ৮০০ মিটার রাস্তা কাঁচা। এই সড়কটুকু পাকা হলে সখীপুর শহরে যেতে অনেক সহজ হবে। কমপক্ষে ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত ঘুরতে হবে না। এছাড়া জিতেশ্বরী বাজার থেকে ছোট চওনা পর্যন্ত ১ কিলোমিটার ও জিতেশ্বরী থেকে সাড়াসিয়া বাজার পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সড়কও পাকা হওয়া দরকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা শহর থেকে জিতেশ্বরী বাজার পর্যন্ত দূরত্ব ৭ কিলোমিটার। মোটরসাইকেল যোগে বড়চওনা বাজার হয়ে অতিরিক্ত ১৫ কিলোমিটার ঘুরে জিতেশ্বরী বাজারে যেতে হয়। বাজার থেকে ৫০০ মিটার হেঁটে কাদা মাড়িয়ে জয়নাল ডাক্তারের বাড়ির পাশের সেই বাঁশের সাঁকোস্থলে যেতে হয়।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, রাস্তার পশ্চিম পাশে লেবুবাগান ও পূর্বপাশে কলাবাগান। রাস্তার পূর্ব পাশ দিয়ে কয়েকটি বড় গাছ থাকায় সেখানে ছায়া থাকে। এর ফলে বর্ষাকালে সড়ক না শুকানোর কারণে ২০ মিটার জুড়ে কাদা হয়। ওই কাদা পারাপারের জন্য স্থানীয় লোকজন একটি বাঁশ ও একটি গাছ ফেলে সাঁকো বানিয়েছেন। পারাপারের সুবিধার্থে বাঁশ বেঁধে রেলিং বানানো হয়েছে। সেই রেলিং ধরে পথচারীরা ওই কাদার রাস্তাটুকু পারাপার হচ্ছেন।
জিতেশ্বরী গ্রামের হৃদয় আহমেদ নামের এক যুবক বলেন, বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যায় না। কোনো আত্মীয়-স্বজন এই গ্রামে বেড়াতে আসতে চায় না। কাঁকড়াজান ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোতালেব হোসেন ওরফে মিন্টু বলেন, এটা আসলে সাঁকো নয়, এটা গ্রামের মানুষের প্রতীকী প্রতিবাদ। কলাচাষি আব্দুল মজিদ বলেন, কাঁচা রাস্তা হওয়ায় এ এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য শহরে নিতে খরচ বেশি পড়ে। ফলে ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না চাষিরা।
কাঁকড়াজান ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বলেন, ৮০০ মিটার সড়ক পাকাকরণের জন্য ইউপি প্রশাসককে জানানো হয়েছে।
কাঁকড়াজন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আনোয়ার হোসেন বলেন, আগামী অর্থবছরে সড়কটি ইট সলিং করে দেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আরিফুর রহমান বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে আশা করি সখীপুরে কোনো কাঁচা সড়ক থাকবে না। ওই সড়কটি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।