রংপুর অফিস
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৫ ২৩:০৪ পিএম
রংপুরের পীরগাছায় অজানা রোগে দুই শতাধিক গরু-ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। সামান্য জ্বর হলেই পরের দিন মারা যাচ্ছে গবাদিপশু। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারীরা।
তাদের অভিযোগ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। এদিকে রোগাক্রান্ত গরু-ছাগল স্থানীয় কসাইয়ের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন অনেকে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
খামারীরা জানান, গত এক মাসের বেশির সময় ধরে পীরগাছা উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে গবাদিপশুর অজানা রোগ। শরীরে হঠাৎ করে তাপমাত্রা বাড়া ও কমার ফলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে গবাদিপশু। সম্প্রতি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পীরগাছার অনন্তরাম গ্রামের মোজাফফর মিয়ার তিনটি গরু ও চারটি ছাগল, শাহ আলমের একটি গরু, খোকা মিয়ার তিনটি গরু ও তিনটি ছাগল, আমিরুল ইসলামের দুটি ছাগল, দশগাঁ এলাকার মশিয়ার রহমানের একটি গরু, সরকারটারী গ্রামের খুরশিদ আলমের লক্ষাধিক টাকা মূল্যের একটি গরু মারা যায়। নতুন ঘর নির্মাণ, মেয়ের বিয়ে দেওয়াসহ নানা কাজের জন্য লালন-পালন করা প্রান্তিক খামারীদের গবাদিপশু মারা যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
অনন্তরাম গ্রামের খোকা মিয়া বলেন, দুপুরে গরুর গায়ে জ্বর ছিল। গ্রামের স্থানীয় ডাক্তার গরুর চিকিৎসা করলেন। সকালবেলাই গরুটি মারা গেল। এভাবে আমার তিনটি গরু ও তিনটি ছাগল মারা গেছে। মারা যাওয়ার ভয়ে অন্য গরু-ছাগলগুলো পানির দরে বিক্রি করে দিয়েছি। এখন আমার গোয়াল শূন্য।
খামারী রবিউল ইসলাম বলেন, খামারীদের এই বিপদের দিনে প্রাণিসম্পদ অফিসের কাউকে পাওয়া যায় না। অফিসে গেলে তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ নেই। তিনি ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কোম্পানির লোকজনের কাছে উপঢৌকন নিতে দিন পার করছেন তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একরামুল হক মণ্ডল বলেন, আমাদের অফিসের জনবল কম থাকায় মাঠে যেতে পারি না, এটা সত্য। আজ থেকে আমার দুটি টিম গরু-ছাগলকে ভ্যাকসিন দেবে। গরু-ছাগল মারা যাওয়ার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ টিম এলে বোঝা যাবে গবাদিপশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।