মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৫ ২০:০৮ পিএম
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ককে দ্রুত চার লেনে উন্নীত করার দাবিতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ ও দেবিদ্বার এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে ছাত্র-জনতা, স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন শ্রমিক এবং ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে অবিলম্বে সড়কটি প্রশস্ত ও উন্নত করার জোর দাবি জানান।
তারা বলেন, মহাসড়কের সরু ও ভাঙাচোরা অবস্থা এবং যানজটের কারণে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে, প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কাজী হাসান বলেন, এ মহাসড়কটি প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহনের চাপ সামলাচ্ছে। কিন্তু সড়কটির প্রশস্ত না হওয়ায় দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। আমরা দ্রুত চার লেন করার দাবি জানাচ্ছি।
আরেক বিক্ষোভকারী কাজী নাছির বলেন, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে বাচ্চারা প্রতিদিন ঝুঁকির মুখে থাকে। এ সড়ক প্রশস্তকরণ ছাড়া নিরাপদ চলাচল সম্ভব নয়, হাইওয়ে পুলিশ শুধু নামমাত্র দায়িত্ব পালন করে। তারা অবৈধ সিএনজি ও রুট পারমিট মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে দুর্ঘটনা ও যানজটে নাকাল সড়ক।
বিক্ষোভের কারণে মহাসড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের আশ্বাসে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। উল্লেখ্য কদিনে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি, কংসনগর, দেবিদ্বার উপজেলার চরবকার, বাড়েরা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা দ্রুত চার লেনের কাজ শুরু না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় কুমিল্লার ময়নামতি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধরখার পর্যন্ত চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ মহাসড়কের অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয় ৭ হাজার ১৮৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া ৪ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে ভারত সরকারের ২ হাজার ৮১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণ সহায়তা দেওয়ার কথা। প্রকল্পের অনুমোদিত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সড়কে গাছকাটা ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এরই মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের পটপরিবর্তনের পর এ প্রকল্পের ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী গত ১০ আগস্ট বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেলে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফ বলেন, সড়কের কাজ হবে। ফান্ড সমস্যার কারণে বিলম্ব হচ্ছে। ভারত যেই ঋণ সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল তা পাওয়া যায়নি। এখন অন্যদিকে ফান্ড খোঁজা হচ্ছে।