খুলনা অফিস
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৫৬ পিএম
সীমাহীন ভোগান্তির প্রতিবাদে বুধবার বেলা ১১টায় রাজপথেই সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘খুলনা নাগরিক সমাজ’। প্রবা ফটো
খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক যেন সড়ক নয়, বরং দুর্ভোগের প্রতীক। প্রায় দেড় দশকের টালবাহানা, কোটি কোটি টাকা ব্যয় আর অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কারণে এখন এটি নগরবাসীর কাছে এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। মাঝপথে থেমে যাওয়া নির্মাণকাজ আর সীমাহীন ভোগান্তির প্রতিবাদে বুধবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজপথেই সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘খুলনা নাগরিক সমাজ’।
দাদা ম্যাচ কোম্পানির সামনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা কেডিএ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, ২০১৩ সালে একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, কিন্তু ব্যয় এখন আড়াই গুণ বেড়ে গেছে। অথচ কাজের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। তিনি অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সহজ অংশের কাজ শেষ করে প্রায় ৭০ কোটি টাকা তুলেছে, কিন্তু রোড ডিভাইডার, ড্রেন, ফুটপাথ, লবণচরা সেতু, মতিয়াখালী স্লুইস গেট ও কালভার্টের মতো মূল কাজগুলো ঝুলে আছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চার কিলোমিটার সড়কজুড়ে কোথাও বিশাল গর্ত, কোথাও পানি জমে পুকুরের মতো দৃশ্য। দুই পাশে খোঁড়া জায়গা আগাছায় ভরে গেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন- এটিকে সড়ক বলা যায়, নাকি চাষাবাদের জমি?
এই অচলাবস্থার কারণে শিল্প-বাণিজ্যে নেমেছে মারাত্মক ক্ষতি। বহু প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে, বছরে শত শত কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় ব্যাঘাতের শিকার। এলাকাবাসীর ভাষায়, এই সড়ক এখন মানুষের জীবনে অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
নাগরিক সমাজের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে কাজের গতি কমিয়ে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। অথচ এ পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কোনো জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়নি। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্মাণ কাজে ধীরগতি ও অর্থ অপচয়ের দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। অন্যথায় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় বিশিষ্টজন ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।