× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বৌদ্ধবিহার নির্মাণে পরিত্যক্ত স্কুলের ইট ব্যবহারের অভিযোগ

বান্দরবান প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৪২ পিএম

রুমা উপজেলা গ্যালেঙ্গ্যা ইউনিয়নের যথুরাম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবণের ইট দিয়ে নতুন বৌদ্ধবিহার নির্মাণ। (সাম্প্রতি তোলা)

রুমা উপজেলা গ্যালেঙ্গ্যা ইউনিয়নের যথুরাম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবণের ইট দিয়ে নতুন বৌদ্ধবিহার নির্মাণ। (সাম্প্রতি তোলা)

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম গ্যালেঙ্গ্যা ইউনিয়নের যথুরাম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত ভবনের ইট খুলে নতুন বৌদ্ধবিহার নির্মাণে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য বৌদ্ধবিহারে ঠিকাদার নতুন ইট না এনে বিদ্যালয়ের ভাঙা ভবনের ইট ব্যবহার করছেন। 

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালের ইট খুলে এনে বিহারের পাশে স্তূপ করা হয়েছে। পুরনো ইটের গায়ে সিমেন্ট-বালুর দাগ স্পষ্ট এবং অনেক ইট কংক্রিট তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়েছে।

বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ উ. পাইন্দিত থেরো (ভান্তে) অভিযোগ করেন, নতুন বিহার নির্মাণ জরুরি ছিল, কিন্তু স্কুলের পুরনো ইট ব্যবহার করা হয়েছে। মাত্র তিন মাসের মধ্যে ঢালাই ছাদ থেকেই পানি পড়তে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঠিকাদার কামাল পাশা একটিও নতুন ইট আনেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা অংশৈনু মারমা জানান, ঠিকাদার কামাল পাশা একটিও নতুন ইট আনেননি। প্রথমে সাঙ্গু নদীর বালু ব্যবহার করলেও স্থানীয়দের আপত্তির মুখে পরে বান্দরবান থেকে বালু আনা হয়। তবে সব ইটই স্কুল থেকে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করলে ঠিকাদার কামাল পাশা বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মেনরত ম্রোও অভিযোগ নাকচ করেন। 

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফোসিং নু মার্মা জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইট নেওয়া হলেও শিক্ষা অফিসের নির্দেশে তা বন্ধ করে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের রুমা উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, খবর পেয়ে কাজ বন্ধ করে নতুন ইট ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলাম। পরে নৌকাযোগে নতুন ইট আনা হয়। তবে স্কুল ভবন ভাঙার অনুমতি শিক্ষা বিভাগ থেকে নেওয়া হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত নন তিনি।

তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে খাগড়াছড়ির এক ঠিকাদারকে কাজটি দেওয়া হয়। প্রকল্প অনুযায়ী এটি দোতলা হবে, যেখানে নিচতলা পাকা ও উপরতলা টিনসেট।

এ বিষয়ে উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, সরকারি ভবন ভাঙতে হলে নিলাম করতে হয় এবং অর্থ কোষাগারে জমা দিতে হয়। অনুমতি ছাড়া ভবন ভাঙা দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি জানান, ঘটনাস্থলের ছবি দেখে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা