নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ১৮:৪৮ পিএম
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ১৯:১২ পিএম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার বলেছেন, অবৈধ জাল ও জাটকা নিধন পুরোপুরি বন্ধ না হওয়াসহ প্রাকৃতিক নানা কারণে ইলিশের উৎপাদন কমেছে। এ ক্ষেত্রে নদীর নাব্যতা হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন, ইলিশের অভয়াশ্রম–সংলগ্ন নদীর তীরে কথিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও দায়ী।
এই প্রেক্ষাপটে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সুরক্ষা ও প্রজনন মৌসুম নির্বিঘ্ন করতে অভিযান পরিচালনাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান উপদেষ্টা। সোমবার (২৫ আগস্ট) বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত ‘উপকূলীয় এলাকার মহিষের চারণভূমি ও উন্নয়নের সমস্যা এবং সমাধান’ শীর্ষক কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
ফরিদা আক্তার বলেন, ইলিশ একটি মাইগ্রেটরি মাছ। এটি সমুদ্র থেকে নদীতে আসে এবং আবার ফিরে যেতে চায়। কিন্তু বর্তমানে তা হচ্ছে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জাটকা নিধন। কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী অভিযান চালালেও এটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যায়নি। এছাড়া অবৈধ জালের ব্যবহার ইলিশের প্রাপ্যতা কমাচ্ছে। তবে এসবের বিরুদ্ধে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় এলাকায় মহিষের চারণভূমি সংকুচিত হয়ে গেছে। আমরা গবেষণায় দেখেছিÑ এর পেছনে নানা কারণ রয়েছে। বাড়িঘর তৈরি হচ্ছে, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ও নির্মিত হচ্ছে। আমাদের দেশে গরু, ছাগল ও মহিষ পালন মানুষের খাদ্য ও জীবন রক্ষার জন্য জরুরি। চারণভূমি বিষয়ে আমরা দেখেছি অনেক কিছুই পরিকল্পনা বিহীনভাবে তৈরি হচ্ছে। এতে মহিষের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তবে সঠিক নীতি ও ব্যবস্থা নিলে এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বাফেলো এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে পিকেএসএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ, বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জিজেইউএসের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন উপস্থিত ছিলেন।