নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৩১ পিএম
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ১৯:০৪ পিএম
মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক মাইন উদ্দিন রাসেল চার বছর আগে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে কোথায়ও খুঁজে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরী করে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে ফেসবুকের কল্যাণে দীর্ঘ চার বছর পর সোমবার (২৫ আগস্ট) নিখোঁজ যুবক রাসেলকে খুঁজে পেয়ে আনন্দিত তার পরিবার। রাসেল ফেনী সদর উপজেলার উজালিয়া গ্রামের মৃত আব্দুস সোবহান হাজীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট দিবাগত রাতে বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাসেমাবাদ এলাকায় ৩৫ বছর বয়সের অজ্ঞাতনামা ভবঘুরে যুবককে রাস্তার পাশে পরে থাকা অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে থানা পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে ওই যুবককে পৌর এলাকার টরকী বন্দর ট্রাস্ট ওল্ড এজ অ্যান্ড কেয়ার হোম নামের একটি বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে আসা হয়। সেখানে গত দুইদিন পরম যত্নে ছিলেন ওই যুবক।
ওইদিন রাতেই আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা সেনাবাহিনীর ল্যান্স করপোরাল কাজী সুজন অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় পেতে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। যা মুহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।
সোমবার (২৫ আগস্ট) বেলা বারোটার দিকে মাইন উদ্দিন রাসেলের বড় ভাই মিজানুর রহমান বলেন, ২০২১ সালের শেষের দিকে মানসিক ভারসাম্যহীন রাসেল কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুজি করেও তাকে না পেয়ে আমরা আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম।
এরই মধ্যে গত ২৪ আগস্ট ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারি, আমার ভাই গৌরনদীর একটি আশ্রমে আছেন। পরবর্তীতে আশ্রম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সোমবার (২৫ আগস্ট) ভাইকে ফিরে পাই। তিনি আরও বলেন, আমদের পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রাসেল সবার ছোট। সে বিবাহ করেছিল। কিন্তু মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে।
রাসেলের আরেক ভাই ফারুক হোসেন বলেন, দীর্ঘবছর পর ফেসবুকের কল্যাণে ভাইকে খুঁজে পেয়েছি। আমরা তাকে বাড়িতে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তুলব। তিনি আশ্রম কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। রাসেল শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ থাকায় এবং কথাবার্তা অসংলগ্ন হওয়ায় দীর্ঘ চার বছর কোথায় কীভাবে ছিল, তা জানা যায়নি।
আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা সেনা সদস্য কাজী সুজন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও থানা পুলিশের সদস্যরা ওই যুবককে আমাদের আশ্রমে রেখে যান। সে শুধু তার বাড়ি ফেনী বলতে পেরেছিল। পরবর্তীতে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। বিষয়টি ছড়িয়ে পরলে ওই যুবকের পরিবারকে খুঁজে পাওয়া যায়।
আশ্রমের ম্যানেজার জাহিদ হাসান বলেন, সোমবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে মাইন উদ্দিন রাসেলের দুই ভাই আশ্রমে আসার পর যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।