আইনজীবী আলিফ হত্যা
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ১৭:১২ পিএম
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ১৭:১২ পিএম
নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ। ফাইল ফটো
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় ইসকনের সাবেক নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম এস এম আলাউদ্দীনের আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানি হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের এপিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বাদীর উপস্থিতিতে ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। এর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন এমন একজন আসামিকে চার্জশীটভুক্ত করেছেন আদালত। চার্জশিট ভুক্তদের মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ২০ জন আসামি কারাগারে এবং ১৯ জন পলাতক আছেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
তিনি জানান, চার্জশীটে চারজনকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছিল পুলিশ। এর মধ্যে সুকান্ত দত্ত নামে একজনও ছিল। যার হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থাকার ছবি ভিডিও আছে। তার নাম-ঠিকানা সঠিক না পাওয়ায় তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আমরা এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছি। পরে আদালত তাকে চার্জশীটভুক্ত করেন।
এর আগে ১ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্রটি জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর পুলিশের কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান।
গত ১০ আগস্ট অভিযোগপত্রের ওপর শুনানির কথা ছিল। সেদিন মামলার বাদী আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন উপস্থিত না থাকায় তাকে হাজিরের নির্দেশ দেন আদালত। সোমবার বাদীর উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ বিষয়ে শুনানি হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন- চন্দন দাস মেথর, রিপন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাস, আমান দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাস, ওমকার দাস, বিশাল, লালা দাস, সামীর, সোহেল দাশ, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবী চরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাস, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস, দ্বীপ দাস ও সুকান্ত দত্ত।
গেল বছরের ৩১ অক্টোবর নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন। এরপর গত ২৫ নভেম্বর রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের এ আদেশকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ করেন চিন্ময়ের অনুসারীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা তাকে বহনকারী প্রিজন ভ্যান আটকে রাখেন তারা। একপর্যায়ে পুলিশ, বিজিবি লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে নগরীর লালদিঘীর পাড় থেকে কোতোয়ালী এলাকায়। সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে রঙ্গম টাওয়ারের পাশে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে খুনের ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এতে অজ্ঞাত আরো ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়। পাশাপাশি আলিফের ভাই খান এ আলম বাদী হয়ে যানবাহন ভাংচুর ও জনসাধারণের ওপর হামলার ঘটনায় ১১৬ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করেন নগরের কোতোয়ালি থানায়।
এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা, গাড়ি ভাঙচুর, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালী থানায় আরও তিনটি মামলা হয়। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা হয় কোতোয়ালী থানায়। এর মধ্যে আইনজীবী হত্যাসহ পাঁচটি মামলার তদন্তে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। পরে এ পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখাতে আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া প্রতিটি মামলায় তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি দেওয়া হয় পুলিশকে।