মাসুদুল আলম, ঝালকাঠি
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ১০:৩০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ঝালকাঠি শহরের চাঁদকাঠি এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে মামাতো ভাইদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তারা জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং এ নিয়ে ফুফাতো ভাই-বোনদের ওপর হামলা, হুমকি ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে বর্তমানে আদালতে দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা বিরোধীয় জমিতে বিল্ডিং নির্মাণ ও বিক্রির চেষ্টা করছেন। এতে জমির প্রকৃত ওয়ারিশরা দখল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা গেছে, মধ্য চাঁদকাঠি এলাকার মরহুম আলী আব্দুল্লাহ তালুকদারের মৃত্যুর পর তার চার ছেলে ও চার মেয়ে ওই সম্পত্তির ওয়ারিশ হন। সময়ের ব্যবধানে চার ছেলে ও তিন মেয়ে মারা যান। তার তৃতীয় মেয়ে আজিমা বেগমের মৃত্যুর পর তার পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলেÑ ফরিদা বেগম, সাহিদা খানম, খালেদা পারভীন, রওশন রিজবানা মেরী, শাহনাজ সুলতানা সওদা, মো. ফায়জুল হক কবির ও রেজয়ানুল হক মুনির মায়ের পৈত্রিক ৫২ শতাংশ জমির মালিক হন। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই জমি বুঝে নিতে গেলে মামাতো ভাই জাবেদ, জাকির, আরিফ তালুকদারসহ কয়েকজন ফুফাতো ভাইবোনদের গালাগাল, মারধর ও হুমকি দিয়ে হয়রানি করে আসছেন। এমনকি আদালতের স্থিতিশীলতা রক্ষার নির্দেশ অমান্য করে ওই জমিতে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, গত বছরের ৭ আগস্ট জহির ও আরিফ ফুফাতো বোন রুনু ও ফরিদার ওপর হামলা চালায়। পরে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ফরিদা বেগমের বাসায় হামলা করে জাবেদ, জাকির ও আরিফ। এ সময় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, ৫৪ হাজার টাকা ও জমির দলিলপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। পুলিশের মধ্যস্থতায় একটি অঙ্গীকারনামায় তিন মাসের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
পরবর্তীতে ৯ ফেব্রুয়ারি ফরিদা বেগমের ছেলে মাসুদকে হামলা করে আরিফ তালুকদার ও তার সহযোগীরা। মাসুদ ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তায় প্রাণে রক্ষা পান।
জমি নিয়ে বর্তমানে ঝালকাঠি আদালতে দেওয়ানি ৪২৯/২৪ নম্বর মামলা চলমান রয়েছে। মামলার শুনানিতে গত ১৮ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে আদালত উভয় পক্ষকে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও বিবাদীরা তা উপেক্ষা করছেন বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাকির তালুকদার বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। উল্টো আমাদের জমি দখল করে রেখেছে তাদের বোন ফরিদার ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজ। আমরা আমাদের প্রাপ্য জমিও পাচ্ছি না।
তবে আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজ আল মাহমুদ ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বর্তমানে পলাতক থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. কবির বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী কোনো পক্ষই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ বা বিক্রয় করতে পারবে না। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কেউ স্থাপনা গড়লে তা আইন লঙ্ঘনের শামিল।
এদিকে ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তারা নানা বাড়ির জমির ন্যায্য অংশ বুঝে না পেয়ে হতাশ। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।