× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে জুম ফসলের সৌন্দর্য

অর্ণব মল্লিক, কাপ্তাই (রাঙামাটি)

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ০৯:৪৩ এএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

বর্তমান আধুনিক যুগেও অনেক পাহাড়ি পরিবার জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল। জুমচাষ করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলেও হয়ে থাকে জুমচাষ। সীতাপাহাড়, রামপাহাড় ও মৈদং পাহাড়জুড়ে চলছে জুমচাষ। অধিকাংশ জুমচাষি এখন পাহাড়ে ধানের চারা রোপণ করছেন। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ব্যাপকভাবে জুমচাষ হয়ে থাকে। ফলে পাহাড়ের বিভিন্ন পরিবার এখন জুমচাষের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কাপ্তাই উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৪৫০ হেক্টর পাহাড়ের জমিতে জুমচাষ হয়। যেখানে অন্য ফসলের সঙ্গে ধানেরও ব্যাপক ফলন হয়ে থাকে। তবে জুমচাষে কবরক ও গ্যালন জাতের ধান উৎপাদন হয়ে থাকে। এ ছাড়া কাপ্তাই কৃষি বিভাগ থেকে আউশ জাতের ব্রি ধান-৮৭ও দেওয়া হয়ে থাকে চাষাবাদের জন্য।

সম্প্রতি কাপ্তাইয়ের অন্যতম সুউচ্চ সীতাপাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে দেখা যায়, সবুজ ধানে ছেয়ে গেছে চারপাশ। স্থানীয় জুমচাষি সামাউ মারমা, স্বপ্না মারমাসহ কয়েকজন জানান, তারা বংশপরম্পরায় বহু বছর ধরে এই জুমচাষ করে আসছেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে তারা ধানের কয়েকটি জাতের চারা রোপণ করেছেন। চারাগুলো আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। তবে তারা সবাই প্রার্থনা করছেন বৃষ্টির জন্য। কেননা জুমচাষে পানি জোগানের একমাত্র ভরসা বৃষ্টি। প্রচণ্ড তাপদাহে যেন ধানের চারার ক্ষতি না হয়, সেজন্যই বৃষ্টির প্রয়োজন।

এদিকে কাপ্তাইয়ের আরেকটি অন্যতম বড় মৈদং পাহাড়ের জুমচাষি সমীরণ তঞ্চঙ্গা, ধারস মনি তঞ্চঙ্গাসহ কয়েকজন জানান, জুমচাষ করে তারা প্রতিবছরই কমবেশি লাভবান হন। তবে এই জুমচাষ অনেক কঠিন। জুমচাষে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। পাশাপাশি জুমচাষ করে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হলেও ভালো ফলনের মাধ্যমে অর্ধলাখ টাকাও আয় করা যায়। বর্তমানে অধিকাংশ জুমচাষি পাহাড়ের চূড়ায় ধানের চারা রোপণ করেছেন। তারা আশা করছেন, যদি এই বর্ষায় ভালো বৃষ্টিপাতের দেখা মেলে, তবে তারা সবাই কমবেশি লাভবান হবেন।

এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ইমরান আহমেদ জানান, পাহাড়ের মানুষের কাছে জুমচাষ একটি ঐতিহ্যবাহী পেশা। কাপ্তাইয়ের বেশ কয়েকটি পাহাড়ে এই জুমচাষ হয়ে থাকে, যেখানে ধানের স্থানীয় জাত ছাড়াও জুমচাষের ধানের জাতের ভালো ফলন পাওয়া যায়। কৃষি বিভাগ বিভিন্নভাবে তাদের সহযোগিতা করে।

তিনি আরও জানান, জুমচাষের ফলে পাহাড়ের মাটির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রতিবছর জায়গা পরিবর্তন করে জুমচাষ করা হয় বলে ভূমিক্ষয়ের বড় রকমের ঝুঁকি কম থাকে। তবে এসব পাহাড়ি জমিতে অন্য ফসল করা হয় না বলে চাষিরা জুমচাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা