মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৫ ২২:১৭ পিএম
৫ আগস্ট ঘটিয়েছে ‘কালো শক্তি’ এবং জুলাই সংগঠনের রাজাকারের বাচ্চা বলে মন্তব্য করায় নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের ছবিতে গণ জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে ছাত্র-জনতার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলায় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
কর্মসূচিতে রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এবং অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ায় কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হল। যারা গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা অস্বীকার করছে বা ভবিষ্যতে করবে, তাদের বিরুদ্ধে শুধু জুতা নিক্ষেপ কেন, তার চেয়েও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
ফজলুর রহমানকে কারণ দর্শানো নোটিসের জন্য বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী ফজলুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক খলিলুর রহমান মুজাহিদ বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের স্বপক্ষে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ অবস্থান নিলেও বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান গণ-অভ্যুত্থানকারীদের ‘কালো শক্তি’ হিসাবে আখ্যায়িত করছেন। ফজলুর রহমান নিয়মিতভাবে অকথ্য অশালীন ভাষায় গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের গালিগালাজ করে যাচ্ছেন।
বিলুপ্ত ঘোষিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন বলেন, নব্য ফ্যাসিস্ট হিসাবে আবির্ভুত হওয়া বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান গণ-অভ্যুত্থানকে তাচ্ছিল্য করে কটাক্ষ করেই যাচ্ছেন। ফজলুর রহমান যেভাবে গণ-অভ্যুত্থানকারীদের কালো শক্তি হিসাবে আখ্যায়িত করে যাচ্ছেন, এ অবস্থায় গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বিএনপি, জামায়াতসহ সকল রাজনৈতিক শক্তিকে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। অন্যথায় নিজেদের ভুমিকাকে নিজেরাই প্রশ্নবিদ্ধ করবেন।
ইকরাম হোসেন আরও বলেন, ছাত্র-জনতাকে তাচ্ছিল্য করে, রাজাকার বলে কোনো ফ্যাসিস্টের আবির্ভাব এ দেশের ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না। যারা নতুন করে ফ্যাসিবাদের সুরে কথা বলে আওয়ামী লীগের এজেন্ট হিসাবে ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সদস্যসচিব ফয়সাল প্রিন্স, ওয়ারিয়র্স অব জুলাই মুখপাত্র মানস সরকার উৎস, সাবেক মুখপাত্র সাবিরুল হক তন্ময়, সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব শামসুর রহমান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক এক টকশোতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান বলেন, যারা ৫ আগস্ট ঘটিয়েছে, সেই কালো শক্তির নাম হলো জামায়াতে ইসলাম। তিনি বলেন, সারজিস আলমরা যারা এর অভিনয় করেছে, এটার অভিনেতা যারা ৫ আগস্টের অভিনেতা- আমি তাদের আর নেতা বলতে চাই না, তাদের আমি অভিনেতা বলব।
একই টকশোতে ফজলুর রহমান আরও বলেন, মানুষ বুঝে গেছে, এরা হলো রাজাকারের বাচ্চা। তারা টাকা-পয়সার মাধ্যমে তরুণ সমাজের একটি অংশকে যেকোনোভাবে প্রভাবিত করেছে। নির্বাচন হলে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সিট পেয়ে ক্ষমতায় আসবে আল্লাহর রহমতে।
তিনি আরও বলেন, যারা ৫ আগস্ট ঘটিয়েছে, সেই কালো শক্তির নাম হলো জামায়াতে ইসলাম। তাদের অগ্রগামী শক্তি হলো ইসলামী ছাত্রশিবির। যারা অভিনয় করেছে, তাদেরকে আমি আর নেতা বলতে চাই না, তাদেরকে আমি অভিনেতা বলব। সেই আল বদর, আল শামস, জামায়াতে ইসলাম। আমরা মনে করেছিলাম, ৫৪ বছরে তাদের পূর্বপুরুষের গ্লানি তারা ভুলে গেছে। কিন্তু না, আরও দ্বিগুণ আকারে সেই গ্লানিটা তাদের মধ্যে এসেছে। তারা চক্রান্ত করে দেশে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।