খুলনা অফিস
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৫ ২১:২১ পিএম
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, কর্তৃত্ববাদীদের পতন হলেও কর্তৃত্ববাদী চর্চা এখনও বহাল আছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু, অবৈধ লেনদেন, ঘুষ, গ্রেপ্তার এমনকি জামিন বাণিজ্যও বহাল রয়েছে। এসব বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং দলীয় দৃষ্টিকোণের ঊর্ধ্বে থেকে রিপোর্ট প্রকাশ করা উচিত।
শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে খুলনায় গণমাধ্যমকর্মীদের দিনব্যাপী ‘ডেটা ট্রান্সপারেন্সির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রতিবেদন’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নগরীর রূপসা স্ট্যান্ড রোডের সিএসএস আভা সেন্টারে এ প্রশিক্ষণে খুলনায় কর্মরত জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক, টিভি চ্যানেল এবং অনলাইন গণমাধ্যমের ৩০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। সকাল নয়টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত চলা এ প্রশিক্ষণটি সমন্বয় করেন টিআইবির ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক এবং সহায়তায় ছিলেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর সাইমুম মৌসুমী বৃষ্টি।
রিসোর্স পারসন হিসেবে সেশন নেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন তুলি, টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশনের ডিরেক্টর মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এবং ফ্রিল্যান্স ডাটা জার্নালিস্ট ও অ্যাডুকেটর মুহাম্মদ ইমরান।
ড. ইফতেখারুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাংবাদিকদের বেশ কয়েকটি বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে কি না, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাজনৈতিক দলগুলো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখছে কি নাÑ এসব খুঁটিনাটি সাংবাদিকদের নজরদারিতে রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকার আমলের সর্বশেষ তিনটি নির্বাচনের ধারাবাহিকতা এখনও বহাল আছে কি নাÑ এটি মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদেরই পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে পেশাদার সাংবাদিকতার মান বজায় রেখে রিপোর্টিং করতে হবে, কোনোভাবেই দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, সাংবাদিকদের নজরে রাখতে হবে যাতে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ না হয় কিংবা সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করে নির্বাচনী কাজে কেউ হস্তক্ষেপ করতে না পারে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে কিন্তু ৫ আগস্টে পরাজিত শক্তি বসে থাকবে না। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে কি না, সেটিও সাংবাদিকদের সতর্ক দৃষ্টিতে দেখতে হবে।