রংপুর অফিস
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৫ ১৮:১১ পিএম
রংপুরে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সিন্ডিকেট ছাড়া কখনও হাসপাতাল চলেছে, এটা বলা যায় না। দুর্নীতি অন্তর্বর্তী সরকারের আগে থেকেই ছিল। আমরা একা এ বিষয়ে কিছু করতে পারব না। তাই জনগণ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি, যেন ক্রয় কার্যক্রমে ইজিপির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করা যায়। তাহলে টেন্ডার নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। আগামী মাস থেকে শতভাগ ইজিপি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাব। শনিবার (২৩ আগস্ট) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘চিকিৎসকদের নিয়ে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল যা বলেছেন, তাদের খুঁজে বের করুন। যদি কেউ থাকে, তবে তাদের কাউন্সিলিং করতে হবে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬’শ বেডের হাসপাতালকে এক হাজার করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে এক হাজার বেডের জনবল দেওয়া হয়নি। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে দুই হাজারেরও বেশি রোগী। তাহলে বাড়তি চাপ ডাক্তারদের নিতে হচ্ছে। করোনার সময় ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট অনেক মারা গেছেন। এরপরেও তারা সেবা দিয়ে গেছেন।’
তিনি বলেন, বিগত দিনে পোস্টিং নিয়ে অনেক নিয়োগ-বাণিজ্য হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার নার্স ঘাটতি রয়েছে। এই প্রথম সাড়ে তিন হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে নাই। তাদের ম্যানুয়ালি কোনো পোস্টিং দেওয়া হয়নি। যাতে মানুষ টাকা খেতে না পারে। পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে অনেকে চয়েজ দিয়েছেন। তাদের মেধার ভিত্তিতে পদায়ন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের মানুষ উত্তরবঙ্গে এবং দক্ষিণবঙ্গের মানুষ দক্ষিণবঙ্গে চাকরির বিষয়টি চিন্তা করা হচ্ছে। এটি হলে পোস্টিং দিয়ে দুর্নীতি থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার পর দেখলাম, হাসপাতালে নার্স নাই, ডাক্তার নাই, টেকনোলজিস্ট নাই। আমরা প্রথম ৭ মাসে ৩ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছি। আগে চিকিৎসক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় তিন বছর লেগে যেত। আশা করছি, আগামী অক্টোবরে তাদের পোস্টিং দেওয়া হবে। তাহলে ডাক্তাদের ঘাটতি কিছুটা পূরণ হবে।’
রংপুর একশ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল নিয়ে তিনি বলেন, শিশু হাসপাতালে জনবল নিয়োগ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তাই আমরা হঠাৎ করে কিছু করতে পারব না। আমি ঢাকায় গিয়ে এটি চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেব। এছাড়া রংপুরে ৫৬০ বেডের হৃদরোগ, কিডনী ও ক্যান্সার হাসপাতাল হচ্ছে। এর বাজেট পাস হয়ে গেছে। এর কাজ আমরা শেষ করে যেতে না পারলেও পরবর্তী সরকার শেষ করতে পারবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, রংপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল প্রমুখ।