× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শীতলক্ষ্যা নদী পারাপারে ভোগান্তি

এম আর কামাল, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৫ ১১:৫৭ এএম

নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর এক নম্বর মূল ফেরিঘাটে যাত্রীসেবা না থাকায় প্রতিদিনিই পারাপারে ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর এক নম্বর মূল ফেরিঘাটে যাত্রীসেবা না থাকায় প্রতিদিনিই পারাপারে ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর খেয়া ঘাটগুলোর মধ্যে মূল ফেরিঘাট থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব এলেও মানুষে চলাচলে কোনো সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়নি। এতে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ ও হতাশা।

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এক নম্বর মূল ফেরিঘাটে নদী পারাপারে কয়েক লাখ যাত্রীদের নিত্যসঙ্গী হয়ে আছে ভোগান্তি। বর্ষায় কয়েকদিন ধরে হচ্ছে টানা বৃষ্টি। যাত্রীছাউনি থাকলেও তাতে মানুষ দাঁড়াতে পারে না। ছাউনি দিয়ে ঝুপঝুপ করে বৃষ্টির পানি পড়ে। ফলে বৃষ্টি থেকে ছাউনিতে দাঁড়িয়ে যাত্রীরা রক্ষা পাবেন তার উপায় নেই।

ছাউনি, পল্টন ও জেটি সংস্কারে প্রতি বছরই সরকারের বরাদ্দ থাকে। তবে অভিযোগে আছে নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দের সব টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদী পারাপারে খেয়া ঘাটগুলোর অন্যতম হচ্ছে বন্দরের এক নম্বর মূল বা সেন্ট্রাল ফেরিঘাট। একই এলাকায় লঞ্চ টার্মিনাল, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও বড় বড় কয়েকটি বাজার থাকায় এ ঘাট দিয়ে প্রায় ৪-৫ লাখ যাত্রী প্রতিদিন পারাপার হয়। অব্যবস্থাপনার কারণে পারাপারে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ ও ভোগান্তি টেনে এনেছে।

চলতি অর্থবছরে টোল আদায়ের জন্য এ ঘাটটি ২ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। রোদ ও বৃষ্টি থেকে নিারপদ আশ্রয়ের জন্য নদীর দুই পাড়েই যাত্রীছাউনি রয়েছে।

প্রতি বছর সংস্কার করা কথা থাকলেও প্রায় পাঁচ বছর ধরে কোনো সংস্কার করা হয়নি। প্রতিটি যাত্রীছাউনির টিনে মরিচা ধরা, ভাঙা ও ছিদ্র হয়ে গেছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতে ছাউনির নিচে দাঁড়ানো আর ছাউনির বাইরে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়ানো একই কথা। কয়েকদিন ধরে ভারী বর্ষণে যাত্রীরা অনেক নাকাল হয়েছেন। ছাউনি থাকলেও বৃষ্টি থেকে তাদের রক্ষা করতে পারেনি।

অন্যদিকে নদীর পশ্চিম পাড়ের যাত্রীছাউনি আর পূর্ব পাড়ের যাত্রীছাউনি ভাঙা থাকলেও সবটাই বেদখল করে আছে দোকানিরা। এমনকি ছাউনি থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত দুটি জেটির দুপাশ দোকানপাটে বেদখল হয়ে আছে। জেটির দুপাশে মুরগির দোকান। এর বর্জ্যের দুগন্ধ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করেন ব্যাংকার আবদুর রাশেদ। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এই বৃষ্টির সময় মানুষের একটু দাঁড়ানোর সুযোগও নেই। ছাউনি দিয়ে পানি পড়ছে। এসব দেখার কেউ নেই।

গার্মেন্ট শ্রমিক আমেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, নৌকা থেকে নেমে একটু দাঁড়িয়েছি। ঝুপঝুপ বৃষ্টিতে ভিজে গেলাম। জেটি দিয়েও ভালোভাবে আসতে পারি না। আমরা টাকা দেই, এ টাকা কী হয়?

অন্য শ্রমিক দিপালী সাহা বলেন, নদী পারাপারে দুরাবস্থার বলে শেষ করা যাবে না। আমরা নিরুপায়। আমাদের কথা কেউ ভাবে না। এ ব্যাপারে ইজারাদার দিদার খন্দকার বলেন, আমরা যাত্রী ছাউনি সংস্কার ও জেটির পাশের দোকানগুলো তুলে দেওয়ার জন্য বারবার কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি। এখনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের বন্দর ও পরিবহন বিভাগের উপপরিচালক মোবারক হোসেন জেটির দুপাশের বেদখল নিয়ে বলেন, খুব দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। যাত্রীছাউনির বিষয়ে বলেন, এটি দেখার জন্য প্রকৌশন বিভাগ আছে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা