উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৫ ২১:০১ পিএম
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের পূর্ব সাতলা জনতাবাজার নামক এলাকায় লম্পট কর্তৃক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার সময় বাধা দিলে লম্পটের হামলায় আহত বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছেন, আতঙ্কে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন ওই বৃদ্ধ মহিলা।
বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা চালায় স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। গত ২১ আগস্ট রাতে পূর্ব সাতলা জনতারবাজারের মৃত হরলাল মন্ডলের স্ত্রী মধুমালা মন্ডল (৫৫) লম্পটের হাতে আহত হয়ে মারা যায় বলে অভিযোগ স্বজনদের। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন মধুমালার পুত্র দিলীপ মন্ডল।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৯ আগস্ট গভীর রাতে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর শাশুড়ি তার মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার সূত্রে প্রতিবেশী বৃদ্ধা মধুমালকে নিয়ে রাতে ঘুমান।
ওই রাতে জনতাবাজারের দোকানি মো. মনির কৌশলে প্রবাসী স্ত্রীর ঘরের মাচার উপর লুকিয়ে ছিল। প্রবাসীর স্ত্রী ও বৃদ্ধা মহিলা ঘুমিয়ে পড়লে লম্পট মনির প্রবাসীর স্ত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। বৃদ্ধাসহ প্রবাসীর স্ত্রী ভয়ে চিৎকার করলে প্রবাসীর স্ত্রীর গালে কামড় বসিয়ে জখম করেন এবং বৃদ্ধাকে প্রথমে লাথি মারে পরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করার চেষ্টা করে। এ সময় বৃদ্ধাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে হসপিটাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেফার করলে টাকার অভাবে বৃদ্ধার দরিদ্র পুত্র বাড়িতে নিয়ে আসে এবং বৃদ্ধা মারা যান।
এ ঘটনায় বৃদ্ধার পুত্র উজিরপুর মডেল থানা অভিযোগ করলে পুলিশ অপমৃত্যুর মামলার রুজু করেন।
দোকানি মনিরের দোকান মালিক মোহাম্মদ আরিফ মোল্লা জানান, গত ২০ আগস্ট গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ডাক-চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে মনির কর্তৃক ধর্ষণের চেষ্টার আলামত দেখতে পাই এবং পরের দিন আমি আমার দোকান থেকে লম্পট মনিরকে বিতাড়িত করি। এতে বিএনপি নেতা মো. কাঞ্চন মোল্লা নেতৃত্বে মনিরের ভগ্নিপতি শাহাদাত বিশ্বাস দলবল নিয়ে আমাকে শাসিয়ে দোকান খুলে দেয়। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রবাসীর স্ত্রীর পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করে বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান।
বিএনপি নেতা কাঞ্চন মোল্লাকে ফোন দিলে তার ব্যবহারিত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অপরদিকে, মনিরের ভগ্নিপতি শাহাদাতকেও পাওয়া যায়নি। লম্পট মনির ও তার বাবা-মা বৃদ্ধার মৃত্যুর পরে গা ঢাকা দিয়েছেন।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম জান, বিষয়টি শুনেছি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।