নেত্রকোণা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:৪৩ পিএম
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে নানারকম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
তার বিরুদ্ধে উপজেলার লাইসেন্সধারী ১৫ জন ঠিকাদার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। সে সঙ্গে তাকে উপজেলা থেকে বদলির দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া বোঝেন না। না বুঝে গত ৪ আগস্ট ই-টেন্ডারের মাধ্যমে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরপত্র আহ্বান করেন। দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা কাজ পাননি। কাজ পেয়ে যান সবচেয়ে বেশি দরদাতা।
আরও বলা হয়, শুধু তাই নয়, একই মাসের ১৭ তারিখ আরও ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু সময় মতো তা ই-জিপিতে দেওয়া হয়নি এবং জাতীয় সংবাদপত্রেও তা প্রচার করা হয়নি। তার অনুগত ৫ জন ঠিকাদারের সাথে আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে গোপনে সিডিউল কিনে ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশের অধিক দরে কাজ দেওয়া হয়। সে ছয়টি কাজের একটির জন্য লাইসেন্সধারী ঠিকাদারের টার্নওভার প্রয়োজন ১০ কোটি টাকা। কিন্তু যে ঠিকাদার দুটি কাজ পেয়েছেন তার টার্নওভার ১১ কোটি টাকা। ৯ কোটি টাকাই কম। তিনি ই-জিপি টেন্ডার না বুঝায় বহিরাগত লোক এনে কাজ করান। এতে অফিসের গোপনীয়তাও নষ্ট হচ্ছে।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ কাজে ময়মনসিংহ অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর প্রত্যায়ন ছাড়া বিল প্রদানের নিয়ম নেই। কিন্তু তিনি কিছু কিছু ঠিকাদারের ক্ষেত্রে বিল প্রদান করে আসছেন। জামানত ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দিলে জামানত ফেরত দেবেন না বলেও হুমকি দেন।
এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের ভেতরে রাস্তা, ড্রেনসহ বিভিন্ন কাজে একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজসে ৭ লাখ টাকা দুর্নীতি করেছেন বলেও অভিযোগ ঠিকাদারদের।
ঠিকাদারদের অভিযোগে মোজাম্মেল হককে অদক্ষ ভারপ্রাপ্ত ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবে তুলে ধরেছেন।
তিনি ময়মনসিংহ থেকে কেন্দুয়া গিয়ে অফিস করেন বলে ঠিক সময়ে উপস্থিত হতে পারেন না। এতে ঠিকাদারের কাজে বিঘ্ন ঘটছে। ১টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বৃহৎ কেন্দুয়া উপজেলায় ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোজাম্মেল হকের পরিবর্তন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলেও দাবি করেন ঠিকাদাররা।
সে জন্য উপজেলায় একজন দক্ষ বিএসসি ক্যাডার প্রকৌশলী পদায়নেরও দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঠিকাদার মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ তার বদলি দাবি করছি আমরা।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি নিয়ম মেনেই সব কাজ করছি। বহিরাগত লোক দিয়ে কাজ করানোর কোনো সুযোগ নেই। তবে সরকারের উন্নয়ন কাজকে ব্যাহত করতে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’