× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাদা পাথর লুট

ভোলাগঞ্জে ঘুষ আদায় করত পুলিশ, প্রশাসন ও বিজিবি

সিলেট অফিস

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৫ ১০:৩৬ এএম

ভোলাগঞ্জে ঘুষ আদায় করত পুলিশ, প্রশাসন ও বিজিবি

সিলেটের ভোলাগঞ্জে প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে ঘুষের টাকা আদায় করত পুলিশ, প্রশাসন ও বিজিবি। সাদা পাথর লুটপাটের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। কয়েকশ কোটি টাকার পাথর লুটে পরোক্ষভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

দুদক জানায়, ১৩ আগস্ট সরেজমিন তদন্ত চালায় দুদকের উপপরিচালক রাফী মো. নাজমুস সা’দাতের নেতৃত্বে একটি টিম। তারা দেখতে পান সংরক্ষিত পর্যটন এলাকা হওয়া সত্ত্বেও নির্বিচারে পাথর উত্তোলন চলছে। উত্তোলিত পাথর প্রথমে স্থানীয় ক্রাশার মেশিনে ভেঙে ফেলা হয়, যাতে লুটপাট আড়াল করা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) আইন অনুযায়ী পাথর উত্তোলন ঠেকানোর ক্ষমতা রাখলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর ৮ জুলাই দেওয়া বক্তব্যকেও পাথর লুটেরাদের উৎসাহদাতা হিসেবে উল্লেখ করেছে দুদক। এছাড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ এবং কোম্পানীগঞ্জের চারজন ইউএনও আজিজুন্নাহার, মোহাম্মদ আবুল হাছনাত, ঊর্মি রায় ও আবিদা সুলতানার বিরুদ্ধে অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। 

দুদকের প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত চারজন ইউএনওকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাথরকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়েছে। গত এক বছরে দিনে-দুপুরে পাথর লুট হয়েছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানও পাথর লুট ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনান ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা প্রতি ট্রাক ও নৌকা থেকে কমিশন নিয়ে লুটেরাদের সহযোগিতা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিটি ট্রাকে প্রায় ৫০০ ঘনফুট পাথর লোড করা হয়। পরিবহন ভাড়া ছাড়া এই পাথরের দাম ধরা হয় ৯১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা পুলিশ ও প্রশাসনের জন্য আলাদা করা হতো। বাকি ৮১ হাজার উত্তোলনকারীরা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিত। ওই ১০ হাজার টাকার মধ্যে পুলিশের জন্য ৫ হাজার এবং উপজেলা প্রশাসনের জন্য ৫ হাজার টাকা ভাগ করা হতো। এ ছাড়া পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত প্রতিটি বারকি নৌকা থেকে ১ হাজার টাকা নেওয়া হতো, যার মধ্যে পুলিশ ৫০০ এবং প্রশাসন (ডিসি ও ইউএনও) ৫০০ টাকা পেত। নির্দিষ্ট সোর্সের মাধ্যমে প্রতি ট্রাক ও নৌকা থেকে এসব চাঁদা বা অবৈধ অর্থ সংগ্রহ করত পুলিশ।

বিজিবির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দুদক। ভোলাগঞ্জ এলাকায় ৩টি বিজিবি পোস্ট রয়েছে, যেগুলো লুটের ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ মিটার দূরত্বেরও কম। কোম্পানি কমান্ডার ইকবাল হোসেনসহ বিজিবি সদস্যরা নিষ্ক্রিয় থাকায় পাথর উত্তোলনকারীরা সহজে লুটপাট চালিয়েছে। বিজিবি প্রতি নৌকা ৫০০ টাকার বিনিময়ে এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দিত এবং পাথর উত্তোলনে বাধা দিত না।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, খনিজ সম্পদ অধিদপ্তর ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের যোগসাজশ ছাড়া ভোলাগঞ্জে এমন নগ্ন লুটপাট সম্ভব হতো না। রাষ্ট্রীয় সম্পদের এই অপব্যবহারে সবাই আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে, যার প্রমাণও দুদক সংগ্রহ করেছে। পাথর লুটে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত, আওয়ামী লীগ, এনসিপিসহ ৪২ জন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিন পাথর প্রতিস্থাপনের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, সাদা পাথরকে আগের রূপে ফিরিয়ে দিতে যা যা করা দরকার, করা হবে। পাশাপাশি কারা এই লুটের সঙ্গে জড়িত, কেন ও কীভাবে এটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা