সাতক্ষীরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৫ ১৭:০৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের মাছখোলা, শাল্যে, বেড়াডাঙ্গী, তালতলা, কুন্দরডাঙ্গা, দেবনগর, খেজুরডাঙ্গা ও আমতলা গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ দিয়ে মৎস্য ঘের নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে হাজারো মানুষের জীবন চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রভাবশালী ঘের মালিকরা পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ বন্ধ করে দেওয়ায় বছরের পর বছর এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘরবাড়ি ও আঙিনা পানিতে ডুবে আছে। রাস্তাঘাটও তলিয়ে থাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এলাকা। কলার ভেলা হয়ে উঠেছে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। রান্নাঘর ও শৌচাগার পানিতে ডুবে থাকায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। গবাদিপশু নিয়েও ভোগান্তি পোহাচ্ছেন পরিবারগুলো।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের জমি-ঘর সব পানিতে ডুবিয়ে মাছ চাষ করছে। খালের মুখগুলো একে একে বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে।’
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, চুলার মধ্যে পানি, বাচ্চাদের নিয়ে ভয়াবহ কষ্টে আছি। সাপের ভয়, পোকার ভয় রাতের বেলা ঘুমাতেও পারি না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী ঘের মালিকদের দৌরাত্ম্যের কারণে তারা প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন। বহুবার অভিযোগ জানালেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের পদক্ষেপগুলো শুধু লোক দেখানো, কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শোয়াইব আহমাদ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসন কাজ করছে। অবৈধভাবে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে রাখা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো হোক।