নারায়ণগঞ্জ অফিস
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৩৮ পিএম
আড়াইহাজারে তিন গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আলমগীর মিয়া। প্রবা ফটো
বাড়ি দখল করাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে তিন গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে টেঁটাবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
বুধবার (২০ আগস্ট) বিকালে উচিৎপুরা ও মরাদাসাদী গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ৩ গ্রামের কয়েকশ মানুষ দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা, দা, ছুরি নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বিকাল ৪টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা, বন্ধ হয়ে পড়ে দোকানপাট। সংঘর্ষ চলাকালে টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়।
আহতরা হলেন, টেঁটাবিদ্ধ আলমগীর মিয়া ও গুরুতর আহত সাদেক আলী, সাদিকুল, আবীর, মিলন, কাইযুম, জাহিরুল, মনির, সেলিম ও ইসমাইল হোসনেসহ আরও অনেকে। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন সেবা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার মরদাসাদী গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আগুয়ানদী গ্রামের সাত্তারের বাড়ি দখল করতে যায়। এতে হামলায় ৭ জন আহত হয়। এই ঘটনায় সাত্তারের স্ত্রী হাজেরা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার বিকাল ৪টায় আগুয়ানদী ও গহরদীসহ আশপাশের লোকজন প্রতিবাদ সভা করে মরদাসাদী গ্রামের ‘চোর-ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে সকলে এক হয়ে মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এই খবর পেয়ে মরদাসাদী গ্রামের লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে শত শত নারী পুরুষ উচিৎপুরা বাজারের দিকে আসতে থাকে। এক পর্যায়ে উচিৎপুরা ও মরাদাসাদী গ্রামের মাঝখানে ৩ গ্রামের কয়েকশ মানুষ দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা, দা, ছুরি নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। এতে আলমগীর হোসেন নামের একজন টেঁটাবিদ্ধসহ ১৫ জন আহত। সন্ধ্যার পর অন্ধকারের কারণে সংঘর্ষ বন্ধ করে যে যার যার মতো করে চলে যায়। আবারও বড় ধরণের সংঘর্ষ হতে পারে বলে এলাকাবাসী জানান।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।